ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিবিসির কিংবদন্তি সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই

blank

বিবিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক খ্যাতিমান সংবাদদাতা মার্ক টালি মারা গেছেন। রোববার বিকেলে ভারতের দিল্লির সাকেত এলাকার ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই টালির ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বরাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। প্রবীণ সাংবাদিক সতীশ জ্যাকব পিটিআইকে বলেন, “মার্ক আজ বিকেলে সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।”

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন মার্ক টালি। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মার্ক টালি। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে তার কণ্ঠ শুনতে সকাল-সন্ধ্যা রেডিওতে কান পেতে থাকত এ দেশের মানুষ। সে সময় মুক্তিযুদ্ধের নির্ভরযোগ্য সংবাদ জানার অন্যতম প্রধান উৎস ছিল বিবিসি এবং মার্ক টালির প্রতিবেদন।

একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলাও তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে ঢাকা ছাড়তে হয়। তবে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে বিদেশি সাংবাদিকদের পূর্ব পাকিস্তান সফরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে বিবিসি তাকে আবার বাংলাদেশ পরিস্থিতি কভার করার দায়িত্ব দেয়।

দ্বিতীয় দফায় ঢাকায় অবস্থান না করলেও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলা ও শরণার্থী শিবির ঘুরে তিনি বাঙালির দুর্দশা এবং যুদ্ধকালীন বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে।

১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জের রিজেন্ট পার্ক থানাধীন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মার্ক টালি। ১৯৬৪ সালে বিবিসিতে যোগ দিয়ে পরের বছর তিনি ভারত সংবাদদাতা হিসেবে দিল্লিতে কর্মজীবন শুরু করেন।

বিবিসিতে প্রায় ৩০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ২০ বছর দিল্লি ব্যুরোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে বিবিসি ছাড়ার পর তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ চালিয়ে যান।

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৯২ সালে ভারতের ‘পদ্মশ্রী’ এবং ২০০৫ সালে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হন।

জনপ্রিয় খবর
blank

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমীরসহ আহত ১০॥ ১২টি বাড়ি-দোকান ভাংচুর ॥ আটক চার

বিবিসির কিংবদন্তি সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই

প্রকাশের সময় : ০৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
blank

বিবিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক খ্যাতিমান সংবাদদাতা মার্ক টালি মারা গেছেন। রোববার বিকেলে ভারতের দিল্লির সাকেত এলাকার ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই টালির ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বরাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। প্রবীণ সাংবাদিক সতীশ জ্যাকব পিটিআইকে বলেন, “মার্ক আজ বিকেলে সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।”

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন মার্ক টালি। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মার্ক টালি। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে তার কণ্ঠ শুনতে সকাল-সন্ধ্যা রেডিওতে কান পেতে থাকত এ দেশের মানুষ। সে সময় মুক্তিযুদ্ধের নির্ভরযোগ্য সংবাদ জানার অন্যতম প্রধান উৎস ছিল বিবিসি এবং মার্ক টালির প্রতিবেদন।

একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলাও তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে ঢাকা ছাড়তে হয়। তবে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে বিদেশি সাংবাদিকদের পূর্ব পাকিস্তান সফরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে বিবিসি তাকে আবার বাংলাদেশ পরিস্থিতি কভার করার দায়িত্ব দেয়।

দ্বিতীয় দফায় ঢাকায় অবস্থান না করলেও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলা ও শরণার্থী শিবির ঘুরে তিনি বাঙালির দুর্দশা এবং যুদ্ধকালীন বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে।

১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জের রিজেন্ট পার্ক থানাধীন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মার্ক টালি। ১৯৬৪ সালে বিবিসিতে যোগ দিয়ে পরের বছর তিনি ভারত সংবাদদাতা হিসেবে দিল্লিতে কর্মজীবন শুরু করেন।

বিবিসিতে প্রায় ৩০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ২০ বছর দিল্লি ব্যুরোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে বিবিসি ছাড়ার পর তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ চালিয়ে যান।

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৯২ সালে ভারতের ‘পদ্মশ্রী’ এবং ২০০৫ সালে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হন।