ঢাকা রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদ্রোহীর ধাক্কায় পাবনা-৩ ও ৪ এ হেভিওয়েট হার, দাঁড়িপাল্লার জয়

blank

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহুল আলোচিত পাবনা জেলার পাবনা-৩পাবনা-৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাবে পরাজিত হয়েছেন বিএনপি-এর দুই হেভিওয়েট প্রার্থী—হাসান জাফির তুহিনহাবিবুর রহমান হাবিব। তাদের পরাজয়ের সুযোগে বিজয়ের ফসল উঠেছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে।

নির্বাচনের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এই দুই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থীরা।

ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। শক্ত অবস্থানে থেকেও কেন তারা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার রেসে টিকতে পারলেন না—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। নির্বাচনের শুরুতে ধারণা ছিল, দুই আসনেই লড়াই হবে ত্রিমুখী; তবে বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাবেই শেষ পর্যন্ত পাল্টে যায় নির্বাচনী সমীকরণ।

পাবনা-৩: অল্প ব্যবধানে জয়, বিদ্রোহীর ভোটেই ব্যবধান

চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট আটজন প্রার্থী। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুল ইসলাম।

বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আলী আছগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। আর বিদ্রোহী প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮ হাজার ২৭ ভোট। বাকি পাঁচজন প্রার্থী সবাই মিলে পেয়েছেন ৫ হাজার ৪২০ ভোট।

মাত্র ৩ হাজার ২৬৯ ভোটের ব্যবধানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী বিজয়ী হন। এ আসনে বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৬৮৩টি এবং ভোটগ্রহণের হার ৭০.২২ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, বাতিল ভোটের অর্ধেকও যদি ধানের শীষের ঝুলিতে যেত, তাহলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।

ভাঙ্গুড়ার বাসিন্দা হওয়ায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সর্বাধিক ভোট পান। ফরিদপুর উপজেলাতেও ধানের শীষের শক্ত অবস্থান থাকলেও সেখানে এগিয়ে যান দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী। চাটমোহরে সর্বাধিক ভোট পেয়েও অন্য দুই উপজেলায় পিছিয়ে পড়ায় পরাজিত হন ধানের শীষের প্রার্থী। অন্যদিকে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার রেসে টিকতে পারেননি ঘোড়া প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের শীষের প্রার্থীর পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল বিদ্রোহী প্রার্থী। পাশাপাশি দলের কিছু নেতার নিষ্ক্রিয়তা ও দলীয় গ্রুপিংও পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে।

তবে নিজের পরাজয়ের জন্য বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোটকে দায়ী করতে নারাজ হাসান জাফির তুহিন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের ভূমিকা সন্তোষজনক ছিল না এবং ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি পুনর্গণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন।

পাবনা-৪: একই চিত্র, ভোট ভাগে ক্ষতি

ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৪ আসনেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। আর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হন জাকারিয়া পিন্টু।

দলীয় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সুযোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মণ্ডল ৩ হাজার ৮০১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট, আর হাবিবুর রহমান হাবিব পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু পেয়েছেন ২৭ হাজার ৯৭০ ভোট।

এ আসনেও বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৪০৩টি এবং ভোটগ্রহণের হার ৭০.৪৭ শতাংশ। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে আসনটি হাতছাড়া হতো না—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

ফলাফল ঘোষণার রাতে সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করেন, ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ কারণেই তিনি পুনরায় ভোট গণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

নলডাঙ্গাকে ‘মডেল পৌরসভা’ গড়ার প্রত্যয় মেয়র প্রার্থী এ্যাড. জাহিদের

বিদ্রোহীর ধাক্কায় পাবনা-৩ ও ৪ এ হেভিওয়েট হার, দাঁড়িপাল্লার জয়

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
blank

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহুল আলোচিত পাবনা জেলার পাবনা-৩পাবনা-৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাবে পরাজিত হয়েছেন বিএনপি-এর দুই হেভিওয়েট প্রার্থী—হাসান জাফির তুহিনহাবিবুর রহমান হাবিব। তাদের পরাজয়ের সুযোগে বিজয়ের ফসল উঠেছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে।

নির্বাচনের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এই দুই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থীরা।

ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। শক্ত অবস্থানে থেকেও কেন তারা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার রেসে টিকতে পারলেন না—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। নির্বাচনের শুরুতে ধারণা ছিল, দুই আসনেই লড়াই হবে ত্রিমুখী; তবে বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাবেই শেষ পর্যন্ত পাল্টে যায় নির্বাচনী সমীকরণ।

পাবনা-৩: অল্প ব্যবধানে জয়, বিদ্রোহীর ভোটেই ব্যবধান

চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট আটজন প্রার্থী। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুল ইসলাম।

বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আলী আছগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। আর বিদ্রোহী প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮ হাজার ২৭ ভোট। বাকি পাঁচজন প্রার্থী সবাই মিলে পেয়েছেন ৫ হাজার ৪২০ ভোট।

মাত্র ৩ হাজার ২৬৯ ভোটের ব্যবধানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী বিজয়ী হন। এ আসনে বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৬৮৩টি এবং ভোটগ্রহণের হার ৭০.২২ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, বাতিল ভোটের অর্ধেকও যদি ধানের শীষের ঝুলিতে যেত, তাহলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।

ভাঙ্গুড়ার বাসিন্দা হওয়ায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সর্বাধিক ভোট পান। ফরিদপুর উপজেলাতেও ধানের শীষের শক্ত অবস্থান থাকলেও সেখানে এগিয়ে যান দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী। চাটমোহরে সর্বাধিক ভোট পেয়েও অন্য দুই উপজেলায় পিছিয়ে পড়ায় পরাজিত হন ধানের শীষের প্রার্থী। অন্যদিকে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার রেসে টিকতে পারেননি ঘোড়া প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের শীষের প্রার্থীর পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল বিদ্রোহী প্রার্থী। পাশাপাশি দলের কিছু নেতার নিষ্ক্রিয়তা ও দলীয় গ্রুপিংও পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে।

তবে নিজের পরাজয়ের জন্য বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোটকে দায়ী করতে নারাজ হাসান জাফির তুহিন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের ভূমিকা সন্তোষজনক ছিল না এবং ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি পুনর্গণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন।

পাবনা-৪: একই চিত্র, ভোট ভাগে ক্ষতি

ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৪ আসনেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। আর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হন জাকারিয়া পিন্টু।

দলীয় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সুযোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মণ্ডল ৩ হাজার ৮০১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট, আর হাবিবুর রহমান হাবিব পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু পেয়েছেন ২৭ হাজার ৯৭০ ভোট।

এ আসনেও বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৪০৩টি এবং ভোটগ্রহণের হার ৭০.৪৭ শতাংশ। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে আসনটি হাতছাড়া হতো না—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

ফলাফল ঘোষণার রাতে সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করেন, ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ কারণেই তিনি পুনরায় ভোট গণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন।