ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনসিসি নৌ শাখার নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান

blank

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) নৌ শাখার ‘নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হল রুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবীন ক্যাডেটদের বরণ এবং বিদায়ী ক্যাডেটদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোড এখানে কোড বানানে ইংরেজিতে বানান ‘cord’ এইটা কেন? কারণ এইটা একটা ফরাসি শব্দ তাই এর শেষ ts উচ্চারণ হয় না। জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও সেচ্ছাসেবক— এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে বিএনসিসি ক্যাডেটরা নিজেদের গড়ে তুলছে। দেশের ক্রান্তিকালীয় সময় বা যেকোন সমস্যা হয় তখন ঝাপিয়ে পড়া। বরিশাল বিএনসিসি অন্তত সুনিপুনভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং ভর্তি পরিক্ষায় প্রক্টরিয়াল বডি হিসেবে কাজ করেন। এইজন্য তোমাদের জানাই আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ। দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলার এই শিক্ষা শুধু ক্যাম্পাস জীবনে নয়, বরং কর্মজীবনেও তাদের শ্রেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।”

সেই সাথে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও শৃঙ্খলায় নৌ শাখার অবদানের প্রশংসা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনা শাখার পিউও এবং ২৫ বিএনসিসি ব্যাটালিয়নের ‘বি’ কোম্পানির কমান্ডার বিএনসিসিও ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী। তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি  সেনা নৌ দুইটি শাখা রয়েছে তার বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করেন। প্রশাসনের বিএসিসির প্রতি আস্থা রয়েছে।

নবীন ক্যাডেটদের উদ্দেশ্য বলেন, আমার সময় প্রতি গুরুত্ব দেই, দায়িত্ব প্রতি গুরুত্ব দেই এবং যথাযথভাবে আমাদের কাজগুলো করা চেষ্টা করি। আমি চাই সেনা শাখা ও নৌ শাখার সকল ক্যাডেটদের যৌথভাবে সেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করো। একইসাথে, আমি ব্যক্তিগতভাবে সকল ক্যাডেটদের ধন্যবাদ জানাই এবং সামনের দিনগুলোতে তোমাদের জন্য রইলো দোয়া ও শুভকামনা।

বিদায়ী ক্যাডেটদের মধ্যে ক্যাডেট অন্ডার অফিসার আসমা হারুন বলেন, ক্যাডেটদের নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি নৌ শাখার পিইউও সুরাইয়া আক্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয় । তিনি বলেন, আমাদের বিএসিসি এতো সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তার পিছনে যারা পরিশ্রম করেন তারা হলো আমাদের প্রশিক্ষকরা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নৌ সেনা ও রোভার শাখা আমার ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করছি এবং করে যেতে চাই। আমাদের বিএনসিসি আগের থেকে দিন দিন অনেক এগিয়ে চলছে। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সেন্টাল ক্যাম্প -১, সেন্টাল ক্যাম্প -২  এবং সেন্টাল ক্যাম্প -৩  সাভার বাইবাসে আমাদের ক্যাডেটরা অংশগ্রহণ করছেন।

বিদায়ী ক্যাডেটদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের এই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাডেট শিপ মেয়দ শেষ মানে সব দায়িত্ব শেষ না; আপনাদের কাজ এখন থেকে আরো বাড়ছে। এখন থেকে আপনার কাজ হচ্ছে আপনাদের এলাকার জন্য। এছাড়া, নবীন ক্যাডেটদের জন্য বলেন, আপনারা যেসকল নিদর্শনামূলক বক্তব্য শুনছেন ঐভাবে আপনাদের তৈরি করার চেষ্টা করবেন।  নিয়মিত ক্লাস করতে হবে, শৃঙ্খলা মানতে হবে ও জীবনে তা প্রয়োগ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নতুন ক্যাডেটদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। একইসাথে বিদায়ী ক্যাডেটদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ সময় বিএনসিসি নৌ শাখার বিভিন্ন স্তরের নতুন ও বিদয়ী ক্যাডেটরা এবং প্রশিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষাংশে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যেখানে ক্যাডেটরা তাদের সুপ্ত প্রতিভা প্রদর্শন করেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমীরসহ আহত ১০॥ ১২টি বাড়ি-দোকান ভাংচুর ॥ আটক চার

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনসিসি নৌ শাখার নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান

প্রকাশের সময় : ০২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
blank

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) নৌ শাখার ‘নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হল রুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবীন ক্যাডেটদের বরণ এবং বিদায়ী ক্যাডেটদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোড এখানে কোড বানানে ইংরেজিতে বানান ‘cord’ এইটা কেন? কারণ এইটা একটা ফরাসি শব্দ তাই এর শেষ ts উচ্চারণ হয় না। জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও সেচ্ছাসেবক— এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে বিএনসিসি ক্যাডেটরা নিজেদের গড়ে তুলছে। দেশের ক্রান্তিকালীয় সময় বা যেকোন সমস্যা হয় তখন ঝাপিয়ে পড়া। বরিশাল বিএনসিসি অন্তত সুনিপুনভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং ভর্তি পরিক্ষায় প্রক্টরিয়াল বডি হিসেবে কাজ করেন। এইজন্য তোমাদের জানাই আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ। দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলার এই শিক্ষা শুধু ক্যাম্পাস জীবনে নয়, বরং কর্মজীবনেও তাদের শ্রেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।”

সেই সাথে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও শৃঙ্খলায় নৌ শাখার অবদানের প্রশংসা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনা শাখার পিউও এবং ২৫ বিএনসিসি ব্যাটালিয়নের ‘বি’ কোম্পানির কমান্ডার বিএনসিসিও ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী। তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি  সেনা নৌ দুইটি শাখা রয়েছে তার বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করেন। প্রশাসনের বিএসিসির প্রতি আস্থা রয়েছে।

নবীন ক্যাডেটদের উদ্দেশ্য বলেন, আমার সময় প্রতি গুরুত্ব দেই, দায়িত্ব প্রতি গুরুত্ব দেই এবং যথাযথভাবে আমাদের কাজগুলো করা চেষ্টা করি। আমি চাই সেনা শাখা ও নৌ শাখার সকল ক্যাডেটদের যৌথভাবে সেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করো। একইসাথে, আমি ব্যক্তিগতভাবে সকল ক্যাডেটদের ধন্যবাদ জানাই এবং সামনের দিনগুলোতে তোমাদের জন্য রইলো দোয়া ও শুভকামনা।

বিদায়ী ক্যাডেটদের মধ্যে ক্যাডেট অন্ডার অফিসার আসমা হারুন বলেন, ক্যাডেটদের নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি নৌ শাখার পিইউও সুরাইয়া আক্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয় । তিনি বলেন, আমাদের বিএসিসি এতো সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তার পিছনে যারা পরিশ্রম করেন তারা হলো আমাদের প্রশিক্ষকরা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নৌ সেনা ও রোভার শাখা আমার ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করছি এবং করে যেতে চাই। আমাদের বিএনসিসি আগের থেকে দিন দিন অনেক এগিয়ে চলছে। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সেন্টাল ক্যাম্প -১, সেন্টাল ক্যাম্প -২  এবং সেন্টাল ক্যাম্প -৩  সাভার বাইবাসে আমাদের ক্যাডেটরা অংশগ্রহণ করছেন।

বিদায়ী ক্যাডেটদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের এই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাডেট শিপ মেয়দ শেষ মানে সব দায়িত্ব শেষ না; আপনাদের কাজ এখন থেকে আরো বাড়ছে। এখন থেকে আপনার কাজ হচ্ছে আপনাদের এলাকার জন্য। এছাড়া, নবীন ক্যাডেটদের জন্য বলেন, আপনারা যেসকল নিদর্শনামূলক বক্তব্য শুনছেন ঐভাবে আপনাদের তৈরি করার চেষ্টা করবেন।  নিয়মিত ক্লাস করতে হবে, শৃঙ্খলা মানতে হবে ও জীবনে তা প্রয়োগ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নতুন ক্যাডেটদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। একইসাথে বিদায়ী ক্যাডেটদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ সময় বিএনসিসি নৌ শাখার বিভিন্ন স্তরের নতুন ও বিদয়ী ক্যাডেটরা এবং প্রশিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষাংশে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যেখানে ক্যাডেটরা তাদের সুপ্ত প্রতিভা প্রদর্শন করেন।