নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আহমদপুর বাজারে নির্বাচনী অফিস স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেলে ধানের শীষের প্রচারণার প্রাক্কালে এ সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জোয়াড়ী ইউনিয়নের সমন্বয়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য কামাল হোসেন এবং উপজেলা শ্রমিকদলের সদস্য সচিব সাজেদুর রহমান আহত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নাটোর-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আজিজের সমর্থনে আহমদপুর বাজার এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা আলাদাভাবে দুটি নির্বাচনী অফিস স্থাপন করেন। শনিবার বিকেলে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আশরাফ আলী এবং সদস্য সচিব শামসুল আলম রনির নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন।
প্রচারণা শুরুর আগে নেতাকর্মীরা পৃথক দুটি অফিসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় নেতারা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তর্কবিতর্ক থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের সমর্থকরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে কামাল হোসেন ও সাজেদুর রহমান রক্তাক্ত আহত হন।
পরে জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় অভ্যন্তরীণ ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, আহমদপুর বাজারে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার খবর তিনি পেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। স্থানীয় বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি 



















