ঢাকা রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীয়ায় সেচ নীতিমালা লঙ্ঘন, অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

blank

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় সরকারি সেচ নীতিমালার চরম লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ১৪০ ফুট দূরত্বের মধ্যে দুটি গভীর নলকূপ স্থাপন, সেচ ক্যাটাগরির বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহার করে সরকারি ফি অমান্য করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং প্রতিবাদকারীদের হুমকির অভিযোগে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

অভিযোগকারী স্থানীয় কৃষক মো. মামুনুর রশিদ (২৯) জানান, ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ১১ নম্বর রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা. জড়িনা খাতুন (৪৮) ও তার মেয়ে সালমা খাতুন নিজ নিজ বসতবাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অথচ সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এত স্বল্প দূরত্বের মধ্যে একাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

 

মামুনুর রশিদের অভিযোগ, ২০২১ সালে তিনি ও সালমা খাতুন একই সময়ে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য আবেদন করেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিআরটিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) কর্মকর্তা তাকে অনুমোদন না দিয়ে সালমা খাতুনকে অনুমতি দেন। অথচ সালমা খাতুনের মা জড়িনা খাতুনের নামে ২০১৫ সাল থেকেই একটি গভীর নলকূপের অনুমোদন কার্যকর ছিল, যা বিধিমালা অনুযায়ী নতুন অনুমতির ক্ষেত্রে বাধা হওয়ার কথা।

 

ভুক্তভোগী কৃষকের ভাষ্যমতে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ফুলবাড়ীয়া থানার সংসদ সদস্য মুসলেম উদ্দিন এবং বিআরটিসির প্রোকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার বদরুল ইসলামের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই অনুমোদন আনা হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে, ২০২২ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে দুর্নীতির দায়ে বিআরটিসির কর্মকর্তা বদরুদ্দোজামান গ্রেপ্তার হন। একই বছরে তৎকালীন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদুল করিম দুদকের কাছে লিখিতভাবে জানান, অবৈধভাবে অনুমোদনপ্রাপ্ত সকল গভীর নলকূপের অনুমতি বাতিল করা হবে।

 

তবে অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসেও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, যা প্রশাসনিক নির্লিপ্ততা ও প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকার নির্ধারিত সেচ ফি যেখানে প্রতি কাঠা জমির জন্য ৩৯০ টাকা, সেখানে অভিযুক্তরা প্রতি কাঠা ৬০০ টাকা করে আদায় করছেন। এসব অর্থ আদায়ের বিপরীতে কোনো সরকারি রশিদ প্রদান করা হচ্ছে না, যা সরাসরি রাজস্ব ফাঁকির শামিল বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর একটি গভীর নলকূপ প্রায় ১০ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হলেও কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা ব্যাখ্যা ছাড়াই তা পুনরায় চালু করা হয়। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সেচ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের অনিয়ম শুধু কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সরকারি নীতিমালা ও রাজস্ব ব্যবস্থাকেও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের নথিপত্র যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী কৃষক মো. মামুনুর রশিদ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

নলডাঙ্গাকে ‘মডেল পৌরসভা’ গড়ার প্রত্যয় মেয়র প্রার্থী এ্যাড. জাহিদের

ফুলবাড়ীয়ায় সেচ নীতিমালা লঙ্ঘন, অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
blank

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় সরকারি সেচ নীতিমালার চরম লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ১৪০ ফুট দূরত্বের মধ্যে দুটি গভীর নলকূপ স্থাপন, সেচ ক্যাটাগরির বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহার করে সরকারি ফি অমান্য করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং প্রতিবাদকারীদের হুমকির অভিযোগে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

অভিযোগকারী স্থানীয় কৃষক মো. মামুনুর রশিদ (২৯) জানান, ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ১১ নম্বর রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা. জড়িনা খাতুন (৪৮) ও তার মেয়ে সালমা খাতুন নিজ নিজ বসতবাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অথচ সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এত স্বল্প দূরত্বের মধ্যে একাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

 

মামুনুর রশিদের অভিযোগ, ২০২১ সালে তিনি ও সালমা খাতুন একই সময়ে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য আবেদন করেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিআরটিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) কর্মকর্তা তাকে অনুমোদন না দিয়ে সালমা খাতুনকে অনুমতি দেন। অথচ সালমা খাতুনের মা জড়িনা খাতুনের নামে ২০১৫ সাল থেকেই একটি গভীর নলকূপের অনুমোদন কার্যকর ছিল, যা বিধিমালা অনুযায়ী নতুন অনুমতির ক্ষেত্রে বাধা হওয়ার কথা।

 

ভুক্তভোগী কৃষকের ভাষ্যমতে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ফুলবাড়ীয়া থানার সংসদ সদস্য মুসলেম উদ্দিন এবং বিআরটিসির প্রোকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার বদরুল ইসলামের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই অনুমোদন আনা হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে, ২০২২ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে দুর্নীতির দায়ে বিআরটিসির কর্মকর্তা বদরুদ্দোজামান গ্রেপ্তার হন। একই বছরে তৎকালীন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদুল করিম দুদকের কাছে লিখিতভাবে জানান, অবৈধভাবে অনুমোদনপ্রাপ্ত সকল গভীর নলকূপের অনুমতি বাতিল করা হবে।

 

তবে অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসেও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, যা প্রশাসনিক নির্লিপ্ততা ও প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকার নির্ধারিত সেচ ফি যেখানে প্রতি কাঠা জমির জন্য ৩৯০ টাকা, সেখানে অভিযুক্তরা প্রতি কাঠা ৬০০ টাকা করে আদায় করছেন। এসব অর্থ আদায়ের বিপরীতে কোনো সরকারি রশিদ প্রদান করা হচ্ছে না, যা সরাসরি রাজস্ব ফাঁকির শামিল বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর একটি গভীর নলকূপ প্রায় ১০ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হলেও কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা ব্যাখ্যা ছাড়াই তা পুনরায় চালু করা হয়। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সেচ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের অনিয়ম শুধু কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সরকারি নীতিমালা ও রাজস্ব ব্যবস্থাকেও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের নথিপত্র যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী কৃষক মো. মামুনুর রশিদ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।