ঢাকা শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ঝটিকা মিছিলের খবর পুলিশের জানা নেই, ভিপি বললেন জানিয়েছি

পুলিশের নির্লিপ্ততায় ১৩ নভেম্বর ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ছাত্রলীগের নাশকতার ছক

blank

সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর নির্দেশে জাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামের নেতৃত্বে ভোরে কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে ব্যানার সহকারে ঝটিকা মিছিল ও কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। ঘটনার ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে বা কোনো অভিযান চালাতে দেখা যায়নি পুলিশ প্রশাসনকে।

blank

পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজার রায়কে কেন্দ্র করে আগামী ১৩ নভেম্বরে পরাজিত ফ্যাসিস্টদের লক ডাউনের কর্মসূচি পালন করতে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা,ঢাকা আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন যানবাহনে হামলা , বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মুখ গেট বা পিছনের অরক্ষিত এলাকাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন গুপ্ত কর্মসূচি পালিত হওয়ার প্রচেষ্টা চালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে ফ্যাসিস্টদের। যেকোন মিছিল মিটিং,বোমা হামলা ইত্যাদি বিশৃংখলা সৃষ্টির লক্ষে ফাঁড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগসহ ফ্যাসিস্ট আমলের বিভিন্ন সুবিধাভোগীদের অবাধ চলাফেরা লক্ষ্যনীয় ভাবে বাড়লেও পুলিশের নির্লিপ্ততা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নির্বাচিত ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু দৈনিক চলনবিল প্রবাহকে জানান, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং আগামী কালকে ছাত্রলীগ-আওয়ামীলীগ বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশে পাশে যেন কোন নাশকতা করতে না পারে এ জন্য আজ রাত ১০ টা থেকে আমরা মাঠে তৎপর আছি।”

 

তবে স্থানীয় ফাড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশে পাশে ছাত্রলীগের  কোনো মিছিল হয়েছে কিনা  আমার  জানা নেই।’

 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পিছনে গ্রাম এলাকায় ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মনির হোসেন সুজন, যুবলীগের সাবেক ইউনিয়ন সভাপতির ভাই যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল জব্বার,বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিটনের পিতা ও আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহার আলী, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি আল আমিন, গোকুলনগর নিবাসী যুবলীগ নেতা ফারুক দেওয়ান, পানদোয়া যুবলীগ নেতা মাসুদ রানা, থানা যুবলীগের সাবেক নেতা ঝুট ব্যবসায়ী রনি দেওয়ান, পাথালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেনসহ অনেক আওয়ামী নেতা কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী গ্রাম এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

 

এদিকে সাবেক এমপি সাইফুলের অনুসারী ও গণবিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক জিএস রলিফসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা ১৩ তারিখের লক ডাউন কর্মসুচি উপলক্ষে সংগঠিত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে   পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি চারিগ্রাম নিবাসী ফজলুল হক ফজা,পাথালিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল দেওয়ান, কুরগাঁ এলাকার ডিশ ব্যবসায়ী যুবলীগ নেতা সুজন দেওয়ান এবং যুবলীগ নেতা আল ইমরানসহ   সোহাগ মেম্বরের  অনুসারীরা  নাশকতার প্রস্ততি নিচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

blank

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফাড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। তিনি এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলামের কথা বলার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন কেটে দেওয়ায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

 

জনপ্রিয় খবর
blank

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় কলাপাড়া বিএনপির আনন্দ মিছিল

ঝটিকা মিছিলের খবর পুলিশের জানা নেই, ভিপি বললেন জানিয়েছি

পুলিশের নির্লিপ্ততায় ১৩ নভেম্বর ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ছাত্রলীগের নাশকতার ছক

প্রকাশের সময় : ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
blank

সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর নির্দেশে জাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামের নেতৃত্বে ভোরে কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে ব্যানার সহকারে ঝটিকা মিছিল ও কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। ঘটনার ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে বা কোনো অভিযান চালাতে দেখা যায়নি পুলিশ প্রশাসনকে।

blank

পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজার রায়কে কেন্দ্র করে আগামী ১৩ নভেম্বরে পরাজিত ফ্যাসিস্টদের লক ডাউনের কর্মসূচি পালন করতে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা,ঢাকা আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন যানবাহনে হামলা , বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মুখ গেট বা পিছনের অরক্ষিত এলাকাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন গুপ্ত কর্মসূচি পালিত হওয়ার প্রচেষ্টা চালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে ফ্যাসিস্টদের। যেকোন মিছিল মিটিং,বোমা হামলা ইত্যাদি বিশৃংখলা সৃষ্টির লক্ষে ফাঁড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগসহ ফ্যাসিস্ট আমলের বিভিন্ন সুবিধাভোগীদের অবাধ চলাফেরা লক্ষ্যনীয় ভাবে বাড়লেও পুলিশের নির্লিপ্ততা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নির্বাচিত ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু দৈনিক চলনবিল প্রবাহকে জানান, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং আগামী কালকে ছাত্রলীগ-আওয়ামীলীগ বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশে পাশে যেন কোন নাশকতা করতে না পারে এ জন্য আজ রাত ১০ টা থেকে আমরা মাঠে তৎপর আছি।”

 

তবে স্থানীয় ফাড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশে পাশে ছাত্রলীগের  কোনো মিছিল হয়েছে কিনা  আমার  জানা নেই।’

 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পিছনে গ্রাম এলাকায় ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মনির হোসেন সুজন, যুবলীগের সাবেক ইউনিয়ন সভাপতির ভাই যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল জব্বার,বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিটনের পিতা ও আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহার আলী, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি আল আমিন, গোকুলনগর নিবাসী যুবলীগ নেতা ফারুক দেওয়ান, পানদোয়া যুবলীগ নেতা মাসুদ রানা, থানা যুবলীগের সাবেক নেতা ঝুট ব্যবসায়ী রনি দেওয়ান, পাথালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেনসহ অনেক আওয়ামী নেতা কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী গ্রাম এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

 

এদিকে সাবেক এমপি সাইফুলের অনুসারী ও গণবিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক জিএস রলিফসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা ১৩ তারিখের লক ডাউন কর্মসুচি উপলক্ষে সংগঠিত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে   পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি চারিগ্রাম নিবাসী ফজলুল হক ফজা,পাথালিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল দেওয়ান, কুরগাঁ এলাকার ডিশ ব্যবসায়ী যুবলীগ নেতা সুজন দেওয়ান এবং যুবলীগ নেতা আল ইমরানসহ   সোহাগ মেম্বরের  অনুসারীরা  নাশকতার প্রস্ততি নিচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

blank

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফাড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। তিনি এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলামের কথা বলার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন কেটে দেওয়ায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।