ঢাকা শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শহীদ হয়েছে ১১০জন বিজিবি সদস্য: রবিউল ইসলাম

blank

বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৪,১৫৬ কিলোমিটার ও মায়ানমারের সাথে ২,৭১ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে চট্টগ্রাম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ৫৪০ কিলোমিটারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর কার্যক্রম সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করেছে পানছড়ি ব্যাটালিয়ান ৩ বিজিবি লোগাং জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম (সেবা)।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বের) সকাল ১০টায় পানছড়ি ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

এ সময় পানছড়ি ব্যাটালিয়ান ৩ বিজিবি লোগাং জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম (সেবা) বলেন, দেশের চালিকা শক্তি যুব সমাজকে ধ্বংস করার জন্য মাদক দ্রব্য বহুলাংশে দায়ী। মাদক সেবনকারী ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতিকে কুলুষিত করে। এই প্রেক্ষাপটে মাদক বিরোধী কার্যক্রমে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে সর্বদা নিরলসভাবে অভিযান অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে জীবনের ঝুকি নিয়ে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত হতে ৪৭৭ বোতল মদ, ৪২৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৮৮.৩১ কেজি গাঁজা, ২শ বোতল বিয়ার এবং ৫২০ পিচ বাংলা মদ তৈরীর ট্যাবলেট আটক করতে সক্ষম হয়।

 

অন্যান্য চোরা চালানি মালামাল আটক:

 

চলিত মাসে ১৯,৩১,২৯৩ ঘন ফুট বিভিন্ন প্রকার কাঠ; ৩,২১০ প্যাকেট বিদেশি সিগারেট; ১১,৫১,২০০ পিচ সিগারেট ফিল্টার; ৯২০ কেজি রাবার; ৫০১ টি গরু ও ৩৬টি ছাগল; ৯৫ পিচ শাড়ি; ১,৭৮৫ প্যাকেট আতশবাজি; ৩০৮ লিটার কীটনাশক; ১৫ কেজি জিরা; ৪,৫০০ ভারতীয় রুপি; ১৭টি বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ও বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক সামগ্রী আটক করেছে।

 

বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন বিওপি নির্মাণ:

 

বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি গুইমারা সেক্টরের সীমান্ত এলাকার রামগড় ব্যাটালিয়নের অধিনে ছোটফরিংগা নামক এলাকায় নতুন ১টি বিওপি উদ্ভোধন করা হয়েছে। ফলে সীমান্তে নজরদারি ও টহল কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ার নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিচালিত অপারেশন উত্তরণ:

 

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিজিবি তার নিজস্ব সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব ছাড়াও অত্র অঞ্চলে সক্রিয় দুষ্কৃতিকারীদের যেকোনো অপরাধমূলক ও সম্প্রীতি নষ্টকারী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সব সময় তৎপর রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জীবনযাত্রার কাঙ্খিত মানউন্নয়নের লক্ষ্যে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এমন যে কোন উদ্যোগ নস্যাৎ করতে আমরা ভদ্র পরিকর। এ জন্য নিয়মিত টহল ও বিভিন্ন কার্যক্রম ছাড়াও গোয়েন্দা অপারেশন পরিচালনা করে আসছি। অভিযানে আমরা বিগত সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যার অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটক করতে সক্ষম হয়েছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ পর্যন্ত ১১০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হয়েছেন।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবির ভূমিকা:

 

গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে খাগড়াছড়ি জেলায় জম্মু ছাত্র-জনতার ব্যানারে অবরোধের নামে যে সহিংস কর্মকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে, সেখানেও বিজিবি সদস্য সর্বোচ্চ ধৈর্য ও পেশ দায়িত্ব পালন করেছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি সদর, গুইমারা এবং রামগড় এলাকায় বিজিবির সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করেছে। এছাড়াও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেকোনো অবনতির ক্ষেত্রে বেসামরিক প্রশাসনের প্রয়োজনে চট্টগ্রাম রিজিয়ন হতে বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও যেকোন প্রয়োজনে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় খবর
blank

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় কলাপাড়া বিএনপির আনন্দ মিছিল

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শহীদ হয়েছে ১১০জন বিজিবি সদস্য: রবিউল ইসলাম

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
blank

বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৪,১৫৬ কিলোমিটার ও মায়ানমারের সাথে ২,৭১ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে চট্টগ্রাম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ৫৪০ কিলোমিটারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর কার্যক্রম সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করেছে পানছড়ি ব্যাটালিয়ান ৩ বিজিবি লোগাং জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম (সেবা)।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বের) সকাল ১০টায় পানছড়ি ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

এ সময় পানছড়ি ব্যাটালিয়ান ৩ বিজিবি লোগাং জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম (সেবা) বলেন, দেশের চালিকা শক্তি যুব সমাজকে ধ্বংস করার জন্য মাদক দ্রব্য বহুলাংশে দায়ী। মাদক সেবনকারী ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতিকে কুলুষিত করে। এই প্রেক্ষাপটে মাদক বিরোধী কার্যক্রমে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে সর্বদা নিরলসভাবে অভিযান অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে জীবনের ঝুকি নিয়ে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত হতে ৪৭৭ বোতল মদ, ৪২৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৮৮.৩১ কেজি গাঁজা, ২শ বোতল বিয়ার এবং ৫২০ পিচ বাংলা মদ তৈরীর ট্যাবলেট আটক করতে সক্ষম হয়।

 

অন্যান্য চোরা চালানি মালামাল আটক:

 

চলিত মাসে ১৯,৩১,২৯৩ ঘন ফুট বিভিন্ন প্রকার কাঠ; ৩,২১০ প্যাকেট বিদেশি সিগারেট; ১১,৫১,২০০ পিচ সিগারেট ফিল্টার; ৯২০ কেজি রাবার; ৫০১ টি গরু ও ৩৬টি ছাগল; ৯৫ পিচ শাড়ি; ১,৭৮৫ প্যাকেট আতশবাজি; ৩০৮ লিটার কীটনাশক; ১৫ কেজি জিরা; ৪,৫০০ ভারতীয় রুপি; ১৭টি বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ও বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক সামগ্রী আটক করেছে।

 

বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন বিওপি নির্মাণ:

 

বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি গুইমারা সেক্টরের সীমান্ত এলাকার রামগড় ব্যাটালিয়নের অধিনে ছোটফরিংগা নামক এলাকায় নতুন ১টি বিওপি উদ্ভোধন করা হয়েছে। ফলে সীমান্তে নজরদারি ও টহল কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ার নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিচালিত অপারেশন উত্তরণ:

 

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিজিবি তার নিজস্ব সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব ছাড়াও অত্র অঞ্চলে সক্রিয় দুষ্কৃতিকারীদের যেকোনো অপরাধমূলক ও সম্প্রীতি নষ্টকারী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সব সময় তৎপর রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জীবনযাত্রার কাঙ্খিত মানউন্নয়নের লক্ষ্যে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এমন যে কোন উদ্যোগ নস্যাৎ করতে আমরা ভদ্র পরিকর। এ জন্য নিয়মিত টহল ও বিভিন্ন কার্যক্রম ছাড়াও গোয়েন্দা অপারেশন পরিচালনা করে আসছি। অভিযানে আমরা বিগত সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যার অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটক করতে সক্ষম হয়েছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ পর্যন্ত ১১০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হয়েছেন।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবির ভূমিকা:

 

গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে খাগড়াছড়ি জেলায় জম্মু ছাত্র-জনতার ব্যানারে অবরোধের নামে যে সহিংস কর্মকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে, সেখানেও বিজিবি সদস্য সর্বোচ্চ ধৈর্য ও পেশ দায়িত্ব পালন করেছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি সদর, গুইমারা এবং রামগড় এলাকায় বিজিবির সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করেছে। এছাড়াও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেকোনো অবনতির ক্ষেত্রে বেসামরিক প্রশাসনের প্রয়োজনে চট্টগ্রাম রিজিয়ন হতে বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও যেকোন প্রয়োজনে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।