ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নৌ-পথে চুরি ও ডাকাতি ঠেকাতে ভাঙ্গুড়ার গুমানি নদীতে গ্রামবাসীর বাঁশের বেড়া

blank

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে নৌ-পথে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুমানি নদীর মাঝ বরাবর বাঁশের বেড়া স্থাপন করেছেন তাঁরা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়ে টানা তিন দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে নদীর মাঝখানে একটির পর একটি বাঁশের খুঁটি পুঁতে এই বেড়া নির্মাণ করা হয়। তবে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেড়ার একটি অংশে নৌযান চলাচলের জন্য পথ রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি বেতুয়ান গ্রাম থেকে দুটি মহিষ ও একটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া গুমানি নদী ব্যবহার করেই উপজেলার অষ্টমণিষা বাজারে একটি সোনার দোকানে ডাকাতি এবং বিভিন্ন স্থানে গরু চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। দুর্বৃত্তরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদীপথে ভাটির দিকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা নিজেদের এলাকা নিরাপদ রাখতে গুমানি নদীর মাঝেই বাঁশের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বেতুয়ান গ্রামের বাসিন্দা তানজু শেখ বলেন, “আমাদের গ্রাম থেকে সাম্প্রতিক সময়ে দুটি মহিষ ও একটি গরু চুরি হয়েছে। তাই আমরা সবাই মিলে নদীর মাঝ বরাবর বাঁশের বেড়া দিয়েছি, যাতে আর কেউ সহজে নৌকা নিয়ে ঢুকতে না পারে।”

একই গ্রামের রুমান উদ্দিন বলেন, “রাতে নৌকা নিয়ে চোর ঢোকার ভয়ে সবাই আতঙ্কে ছিলাম। এখন বেড়া থাকায় অনেকটাই নিরাপদ মনে হচ্ছে।”

গ্রামের আরেক বাসিন্দা রুকসানা আক্তার জানান, “গ্রামবাসী সবাই একসঙ্গে কাজ করেছে। আমাদের নিরাপত্তার জন্য এই উদ্যোগ খুব প্রয়োজন ছিল।”

দিলপাশার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম সজীব খাঁন বলেন, “বাঁশের খুঁটি পুঁততে তিন দিন সময় লেগেছে। গ্রামবাসী রাতের অন্ধকারেও স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেছেন। নৌ চলাচলে সমস্যা না হয়, সে জন্য বেড়ার একটি অংশ খোলা রাখা হয়েছে।”

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নৌ-পথে গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছিল। গ্রামবাসীর উদ্যোগে গুমানি নদীতে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। দিনে নৌকা চলাচলে যেন সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও স্থানীয়রা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছেন।”

গ্রামবাসীর এই উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে এবং নৌ-পথে অপরাধ প্রতিরোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় খবর
blank

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমীরসহ আহত ১০॥ ১২টি বাড়ি-দোকান ভাংচুর ॥ আটক চার

নৌ-পথে চুরি ও ডাকাতি ঠেকাতে ভাঙ্গুড়ার গুমানি নদীতে গ্রামবাসীর বাঁশের বেড়া

প্রকাশের সময় : ০৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
blank

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে নৌ-পথে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুমানি নদীর মাঝ বরাবর বাঁশের বেড়া স্থাপন করেছেন তাঁরা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়ে টানা তিন দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে নদীর মাঝখানে একটির পর একটি বাঁশের খুঁটি পুঁতে এই বেড়া নির্মাণ করা হয়। তবে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেড়ার একটি অংশে নৌযান চলাচলের জন্য পথ রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি বেতুয়ান গ্রাম থেকে দুটি মহিষ ও একটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া গুমানি নদী ব্যবহার করেই উপজেলার অষ্টমণিষা বাজারে একটি সোনার দোকানে ডাকাতি এবং বিভিন্ন স্থানে গরু চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। দুর্বৃত্তরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদীপথে ভাটির দিকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা নিজেদের এলাকা নিরাপদ রাখতে গুমানি নদীর মাঝেই বাঁশের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বেতুয়ান গ্রামের বাসিন্দা তানজু শেখ বলেন, “আমাদের গ্রাম থেকে সাম্প্রতিক সময়ে দুটি মহিষ ও একটি গরু চুরি হয়েছে। তাই আমরা সবাই মিলে নদীর মাঝ বরাবর বাঁশের বেড়া দিয়েছি, যাতে আর কেউ সহজে নৌকা নিয়ে ঢুকতে না পারে।”

একই গ্রামের রুমান উদ্দিন বলেন, “রাতে নৌকা নিয়ে চোর ঢোকার ভয়ে সবাই আতঙ্কে ছিলাম। এখন বেড়া থাকায় অনেকটাই নিরাপদ মনে হচ্ছে।”

গ্রামের আরেক বাসিন্দা রুকসানা আক্তার জানান, “গ্রামবাসী সবাই একসঙ্গে কাজ করেছে। আমাদের নিরাপত্তার জন্য এই উদ্যোগ খুব প্রয়োজন ছিল।”

দিলপাশার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম সজীব খাঁন বলেন, “বাঁশের খুঁটি পুঁততে তিন দিন সময় লেগেছে। গ্রামবাসী রাতের অন্ধকারেও স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেছেন। নৌ চলাচলে সমস্যা না হয়, সে জন্য বেড়ার একটি অংশ খোলা রাখা হয়েছে।”

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নৌ-পথে গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছিল। গ্রামবাসীর উদ্যোগে গুমানি নদীতে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। দিনে নৌকা চলাচলে যেন সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও স্থানীয়রা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছেন।”

গ্রামবাসীর এই উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে এবং নৌ-পথে অপরাধ প্রতিরোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।