ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় জাতিসংঘে ওয়াকআউট, বাইরে বিক্ষোভ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 22
blank

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার পরপরই কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের একটি অংশ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে।

নেতানিয়াহু মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত প্রতিনিধিদের একাংশ তাঁকে উদ্দেশ করে দুয়ো দিতে শুরু করেন। পরে অনেকে একে একে হল ত্যাগ করেন। তবে ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অধিবেশনের সভাপতি বারবার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

ওয়াকআউটের পর নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ যেসব ব্যক্তি এখনো এই কক্ষ থেকে বের হয়ে যাননি, তারাও দয়া করে বের হয়ে যান।’

এএফপির হাতে আসা একটি আনুষ্ঠানিক স্মারক অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রকে নেতানিয়াহুর ভাষণ যৌথভাবে বর্জন ও ওয়াকআউট করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

জাতিসংঘের বাইরে বিক্ষোভ

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ফার্স্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় কয়েক শ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাঁদের অনেকে সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল ব্যাহত করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন, গাজাকে বাঁচতে দিন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভ থেকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রশংসা নেতানিয়াহুর

জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে সংক্ষিপ্ত সফরে যান নেতানিয়াহু। তবে সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কোনো বৈঠক হয়নি। জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে অবশ্য ট্রাম্পের প্রশংসা করেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করে যাব। আমরা জয়ী হতে থাকব, কারণ আমাদের আর কোনো পথ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বড় কোনো অংশীদার আমরা পাইনি।’

ইসরায়েলের কূটনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ

গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে রয়েছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও বিভিন্ন দেশের সমালোচনার বিষয়টি উঠে আসে। তিনি ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহু ও তাঁর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর ফলে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর ওপর আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নিয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতারা ‘দুর্বলতা ও তোষণের পথ’ বেছে নিয়েছেন।

ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সমালোচনা

নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণে ইসরায়েলের ঐতিহাসিক মিত্র ব্রিটেন ও ফ্রান্সেরও সমালোচনা করেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি ও ইসরায়েলের নীতির বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশ দুটি প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে।

জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু দুই দেশের অতীত ঔপনিবেশিক ইতিহাসেরও সমালোচনা করেন।

ইরানকে নিয়ে কড়া বক্তব্য

ইরান নিয়েও কঠোর বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি ইরানে ‘খুনে স্বৈরশাসন’ চলছে বলে মন্তব্য করেন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর বিষয়ে তাঁর সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বের পতন ‘দূরে নয়’। এ সময় তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং দেশটির আঞ্চলিক ভূমিকার সমালোচনা করেন।

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় একদিকে প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট, অন্যদিকে সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ—দুই ঘটনাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে চলমান তীব্র মতবিরোধকে সামনে নিয়ে আসে।

blank

চট্টগ্রামে রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত করতে মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশ

নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় জাতিসংঘে ওয়াকআউট, বাইরে বিক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
blank

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার পরপরই কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের একটি অংশ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে।

নেতানিয়াহু মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত প্রতিনিধিদের একাংশ তাঁকে উদ্দেশ করে দুয়ো দিতে শুরু করেন। পরে অনেকে একে একে হল ত্যাগ করেন। তবে ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অধিবেশনের সভাপতি বারবার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

ওয়াকআউটের পর নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ যেসব ব্যক্তি এখনো এই কক্ষ থেকে বের হয়ে যাননি, তারাও দয়া করে বের হয়ে যান।’

এএফপির হাতে আসা একটি আনুষ্ঠানিক স্মারক অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রকে নেতানিয়াহুর ভাষণ যৌথভাবে বর্জন ও ওয়াকআউট করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

জাতিসংঘের বাইরে বিক্ষোভ

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ফার্স্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় কয়েক শ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাঁদের অনেকে সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল ব্যাহত করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন, গাজাকে বাঁচতে দিন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভ থেকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রশংসা নেতানিয়াহুর

জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে সংক্ষিপ্ত সফরে যান নেতানিয়াহু। তবে সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কোনো বৈঠক হয়নি। জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে অবশ্য ট্রাম্পের প্রশংসা করেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করে যাব। আমরা জয়ী হতে থাকব, কারণ আমাদের আর কোনো পথ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বড় কোনো অংশীদার আমরা পাইনি।’

ইসরায়েলের কূটনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ

গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে রয়েছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও বিভিন্ন দেশের সমালোচনার বিষয়টি উঠে আসে। তিনি ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহু ও তাঁর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর ফলে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর ওপর আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নিয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতারা ‘দুর্বলতা ও তোষণের পথ’ বেছে নিয়েছেন।

ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সমালোচনা

নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণে ইসরায়েলের ঐতিহাসিক মিত্র ব্রিটেন ও ফ্রান্সেরও সমালোচনা করেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি ও ইসরায়েলের নীতির বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশ দুটি প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে।

জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু দুই দেশের অতীত ঔপনিবেশিক ইতিহাসেরও সমালোচনা করেন।

ইরানকে নিয়ে কড়া বক্তব্য

ইরান নিয়েও কঠোর বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি ইরানে ‘খুনে স্বৈরশাসন’ চলছে বলে মন্তব্য করেন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর বিষয়ে তাঁর সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বের পতন ‘দূরে নয়’। এ সময় তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং দেশটির আঞ্চলিক ভূমিকার সমালোচনা করেন।

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় একদিকে প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট, অন্যদিকে সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ—দুই ঘটনাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে চলমান তীব্র মতবিরোধকে সামনে নিয়ে আসে।