ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীদের জন্য ঢাকাসহ ৩ জেলায় চালু হলো বিআরটিসির ‘পিংক বাস’

blank

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় বিশেষ ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নারীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এ সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে নতুন রুটে বাস চালুর পাশাপাশি বাসের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে বর্তমানে নারীরা যে পরিবেশে গণপরিবহনে যাতায়াত করছেন, সেটিও ধীরে ধীরে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নারী যাত্রীরা যেন এই বাসে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে চলাচল করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বাস চালু করলেই হবে না, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরো সেবার মানও উন্নত করতে হবে। নারীদের জন্য চালু করা এই বিশেষ বাসসেবা যেন কয়েক মাস পর হারিয়ে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। অতীতে কোনো কোনো সেবা উদ্বোধনের কয়েক মাস পর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমনটি হতে দেবে না।

বিআরটিসি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শেখ রবিউল আলম বলেন, মঙ্গলবার যে সেবা শুরু হলো, দুই মাস পর এর মান আরও উন্নত করতে হবে। বিদ্যমান লজিস্টিক সহায়তা ও জনবল হয়তো নতুন ব্যবস্থার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নাও থাকতে পারে। তবে প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এর উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা সরকার করবে এবং মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবে। এই উদ্যোগকে টেকসই করা, আরও সমৃদ্ধ করা এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়াই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের বাসে ওঠার আগের অপেক্ষার সময় থেকে শুরু করে বাসে ওঠা এবং গন্তব্যে পৌঁছে বাস থেকে নামা পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথ নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। কারণ, বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় অনেক নারী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বাসের ভেতরেও বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার বাস থেকে নামার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ভোটারদেরও অর্ধেকের বেশি নারী। পাশাপাশি পরিবারের অর্থনীতিতেও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই নারীদের সক্ষমতাকে রাষ্ট্রের কাজে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে তাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি।

বিআরটিসি জানিয়েছে, নারীবান্ধব এবং নারী চালক দ্বারা পরিচালিত পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় মোট ১৪টি বিশেষ বাস দিয়ে ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করা হয়েছে। ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি, চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলাচল করবে। ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল বাস রয়েছে।

আগামী দিনে এ সেবা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রুটের সংখ্যা ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমানে নারীরা যে পরিবেশে যাতায়াত করছেন, সেটিও পর্যায়ক্রমে আরও উন্নত করা হবে।

বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিআরটিসি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তার বেশি বাস পরিচালনা করছে। সংস্থাটি বর্তমানে লোকসানে নেই; বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থানে রয়েছে।

মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ই-বাসকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলাও সরকারের অঙ্গীকারের অংশ।

তিনি জানান, ২০০টি ই-বাসের মধ্যে ১০০টি নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে রাখা হচ্ছে। এর ফলে নারী বাসসেবার রুট ও বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। বর্তমানে যেসব এলাকায় এই সেবা চালু হয়েছে, তার বাইরে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

নারীবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বিআরটিসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকায় পিংক বাসগুলো নতুন বাজার (কোকা-কোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর ১০-মতিঝিল, মিরপুর-মতিঝিল, মিরপুর ১২-মতিঝিল, মোহাম্মদপুর-মতিঝিল, আবদুল্লাহপুর-মতিঝিল এবং গাজীপুর-এবিআর রুটে চলাচল করবে।

এ ছাড়া অন্যান্য রুটের মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা, বগুড়ার শেরপুর-মাটিডালি এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট-পতেঙ্গা।

নারীদের জন্য ঢাকাসহ ৩ জেলায় চালু হলো বিআরটিসির ‘পিংক বাস’

প্রকাশের সময় : ০৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
blank

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় বিশেষ ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নারীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এ সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে নতুন রুটে বাস চালুর পাশাপাশি বাসের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে বর্তমানে নারীরা যে পরিবেশে গণপরিবহনে যাতায়াত করছেন, সেটিও ধীরে ধীরে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নারী যাত্রীরা যেন এই বাসে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে চলাচল করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বাস চালু করলেই হবে না, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরো সেবার মানও উন্নত করতে হবে। নারীদের জন্য চালু করা এই বিশেষ বাসসেবা যেন কয়েক মাস পর হারিয়ে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। অতীতে কোনো কোনো সেবা উদ্বোধনের কয়েক মাস পর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমনটি হতে দেবে না।

বিআরটিসি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শেখ রবিউল আলম বলেন, মঙ্গলবার যে সেবা শুরু হলো, দুই মাস পর এর মান আরও উন্নত করতে হবে। বিদ্যমান লজিস্টিক সহায়তা ও জনবল হয়তো নতুন ব্যবস্থার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নাও থাকতে পারে। তবে প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এর উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা সরকার করবে এবং মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবে। এই উদ্যোগকে টেকসই করা, আরও সমৃদ্ধ করা এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়াই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের বাসে ওঠার আগের অপেক্ষার সময় থেকে শুরু করে বাসে ওঠা এবং গন্তব্যে পৌঁছে বাস থেকে নামা পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথ নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। কারণ, বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় অনেক নারী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বাসের ভেতরেও বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার বাস থেকে নামার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ভোটারদেরও অর্ধেকের বেশি নারী। পাশাপাশি পরিবারের অর্থনীতিতেও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই নারীদের সক্ষমতাকে রাষ্ট্রের কাজে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে তাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি।

বিআরটিসি জানিয়েছে, নারীবান্ধব এবং নারী চালক দ্বারা পরিচালিত পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় মোট ১৪টি বিশেষ বাস দিয়ে ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করা হয়েছে। ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি, চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলাচল করবে। ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল বাস রয়েছে।

আগামী দিনে এ সেবা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রুটের সংখ্যা ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমানে নারীরা যে পরিবেশে যাতায়াত করছেন, সেটিও পর্যায়ক্রমে আরও উন্নত করা হবে।

বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিআরটিসি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তার বেশি বাস পরিচালনা করছে। সংস্থাটি বর্তমানে লোকসানে নেই; বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থানে রয়েছে।

মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ই-বাসকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলাও সরকারের অঙ্গীকারের অংশ।

তিনি জানান, ২০০টি ই-বাসের মধ্যে ১০০টি নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে রাখা হচ্ছে। এর ফলে নারী বাসসেবার রুট ও বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। বর্তমানে যেসব এলাকায় এই সেবা চালু হয়েছে, তার বাইরে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

নারীবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বিআরটিসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকায় পিংক বাসগুলো নতুন বাজার (কোকা-কোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর ১০-মতিঝিল, মিরপুর-মতিঝিল, মিরপুর ১২-মতিঝিল, মোহাম্মদপুর-মতিঝিল, আবদুল্লাহপুর-মতিঝিল এবং গাজীপুর-এবিআর রুটে চলাচল করবে।

এ ছাড়া অন্যান্য রুটের মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা, বগুড়ার শেরপুর-মাটিডালি এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট-পতেঙ্গা।