ঢাকা শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ

দেশীয় জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রাণিসম্পদে উন্নতির অঙ্গীকার

blank

‘দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি—প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা জেলায় পালিত হলো জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ। জীবননগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্থানীয় খামারি ও উদ্যোক্তাদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

এই আয়োজনে র‌্যালি, মনোজ্ঞ প্রাণিসম্পদ মেলা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনাকে তুলে ধরা হয়।

 

সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে। র‌্যালিটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এরপর অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ, প্রাণিসম্পদ মেলা শুরু হয়।

 

মেলায় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খামারিরা তাদের উন্নত জাতের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, এবং কবুতরসহ বিভিন্ন পশু-পাখি প্রদর্শন করেন। দর্শনার্থীরা আগ্রহ ভরে স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং দেশীয় উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা নেন।

 

মেলা পরিদর্শনের পর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-আমীন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ভেটেরিনারি অফিসার ডা. মো. আতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জীবননগর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. জুয়েল শেখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার সাইফুল ইসলাম।

 

প্রধান অতিথি ডা. মো. আতিউর রহমান তার বক্তব্যে দেশীয় জাতের সংরক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশে দেশীয় জাতের প্রাণীরা অত্যন্ত সহনশীল। এই জাতগুলোর জেনেটিক বৈশিষ্ট্য উন্নত করার পাশাপাশি আধুনিক প্রজনন ও চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা উৎপাদন বহুগুণে বাড়াতে পারি। এতে খামারিরা আরও লাভবান হবেন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান বাড়বে।”

 

সভাপতির বক্তব্যে মো. আল-আমীন খামারিদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, “প্রাণিসম্পদ শুধু আমিষের চাহিদা পূরণ নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার অন্যতম হাতিয়ার। সরকারের পক্ষ থেকে খামারিদের সব ধরনের সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে, যাতে তারা উৎপাদন বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।”

 

আলোচনা সভার সমাপ্তি শেষে মেলার প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী সেরা খামারি ও বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। উন্নত জাতের প্রাণী প্রদর্শন, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য তাদের পুরস্কৃত করা হয়।

জনপ্রিয় খবর
blank

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় কলাপাড়া বিএনপির আনন্দ মিছিল

জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ

দেশীয় জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রাণিসম্পদে উন্নতির অঙ্গীকার

প্রকাশের সময় : ০৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
blank

‘দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি—প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা জেলায় পালিত হলো জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ। জীবননগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্থানীয় খামারি ও উদ্যোক্তাদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

এই আয়োজনে র‌্যালি, মনোজ্ঞ প্রাণিসম্পদ মেলা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনাকে তুলে ধরা হয়।

 

সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে। র‌্যালিটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এরপর অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ, প্রাণিসম্পদ মেলা শুরু হয়।

 

মেলায় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খামারিরা তাদের উন্নত জাতের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, এবং কবুতরসহ বিভিন্ন পশু-পাখি প্রদর্শন করেন। দর্শনার্থীরা আগ্রহ ভরে স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং দেশীয় উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা নেন।

 

মেলা পরিদর্শনের পর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-আমীন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ভেটেরিনারি অফিসার ডা. মো. আতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জীবননগর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. জুয়েল শেখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার সাইফুল ইসলাম।

 

প্রধান অতিথি ডা. মো. আতিউর রহমান তার বক্তব্যে দেশীয় জাতের সংরক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশে দেশীয় জাতের প্রাণীরা অত্যন্ত সহনশীল। এই জাতগুলোর জেনেটিক বৈশিষ্ট্য উন্নত করার পাশাপাশি আধুনিক প্রজনন ও চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা উৎপাদন বহুগুণে বাড়াতে পারি। এতে খামারিরা আরও লাভবান হবেন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান বাড়বে।”

 

সভাপতির বক্তব্যে মো. আল-আমীন খামারিদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, “প্রাণিসম্পদ শুধু আমিষের চাহিদা পূরণ নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার অন্যতম হাতিয়ার। সরকারের পক্ষ থেকে খামারিদের সব ধরনের সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে, যাতে তারা উৎপাদন বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।”

 

আলোচনা সভার সমাপ্তি শেষে মেলার প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী সেরা খামারি ও বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। উন্নত জাতের প্রাণী প্রদর্শন, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য তাদের পুরস্কৃত করা হয়।