ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দর্শনার্থীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি: নীলফামারীতে ডিবি পুলিশের হাতে ভাইরাল জঙ্গি মামুন গ্রেপ্তার

blank

নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে বড় মাঠ এলাকায় দর্শনার্থীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. মামুন শেখ ওরফে জঙ্গি মামুন ওরফে ভাইরাল মামুন (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নীলফামারী সদর থানাধীন পৌর এলাকার বড় মাঠের পূর্ব পাশে তাপস রায় (২২) তার স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের অবরুদ্ধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীর সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয়।

 

পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সম্মানহানির হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। দিনের আলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এমন ঘটনার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়।

 

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে এসআই রাসেল শেখের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলফামারী সদর থানাধীন চড়াইখোলা বটতলী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. মামুন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সে ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বড় মাঠ এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

 

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় মামলা নম্বর-৪২, তারিখ-৩০/০১/২০২৬ খ্রি., জিআর নং-৪২/২০২৬ রুজু করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৮৫/৩৮৬/৩২৩/৫০৬/৩৪ ধারাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী) এর ১০ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২৫(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানায়, চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমীরসহ আহত ১০॥ ১২টি বাড়ি-দোকান ভাংচুর ॥ আটক চার

দর্শনার্থীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি: নীলফামারীতে ডিবি পুলিশের হাতে ভাইরাল জঙ্গি মামুন গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
blank

নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে বড় মাঠ এলাকায় দর্শনার্থীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. মামুন শেখ ওরফে জঙ্গি মামুন ওরফে ভাইরাল মামুন (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নীলফামারী সদর থানাধীন পৌর এলাকার বড় মাঠের পূর্ব পাশে তাপস রায় (২২) তার স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের অবরুদ্ধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীর সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয়।

 

পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সম্মানহানির হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। দিনের আলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এমন ঘটনার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়।

 

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে এসআই রাসেল শেখের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলফামারী সদর থানাধীন চড়াইখোলা বটতলী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. মামুন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সে ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বড় মাঠ এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

 

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় মামলা নম্বর-৪২, তারিখ-৩০/০১/২০২৬ খ্রি., জিআর নং-৪২/২০২৬ রুজু করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৮৫/৩৮৬/৩২৩/৫০৬/৩৪ ধারাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী) এর ১০ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২৫(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানায়, চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।