সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের বিষমডাঙ্গা গ্রামে তানিয়া খাতুন (২৬) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী মো. শাহ পরানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের বাবা মো. সোরহাব আলী শেখ বাদী হয়ে তাড়াশ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে শাহ পরান ও তানিয়া খাতুনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে শাহ পরান দেশে ফিরে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী তানিয়াকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাদের কোনো সন্তান ছিল না। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ ও ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে খাবার খেয়ে স্বামী-স্ত্রী নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন বুধবার সকাল প্রায় ৬টার দিকে তানিয়ার মা আলেয়া বেগম মেয়েকে ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে সংলগ্ন ওয়াশরুমে গিয়ে তিনি তানিয়াকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা এবং মাথা ও কপাল থেঁতলানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ছুটে এসে কক্ষের ভেতরে রক্তমাখা বিছানার চাদর এবং একটি মসলা বাটার পাথরের শিল দেখতে পান। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে কক্ষে তানিয়াকে হত্যা করে পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ওয়াশরুমে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে তাড়াশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাশিদুল হাসান, তাড়াশ উপজেলা প্রতিনিধি 


















