ঢাকা রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল: সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই হবেন সরকার প্রধান

blank

বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এই ঐতিহাসিক রায়টি প্রকাশ করা হয়। রায়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই নির্বাচনকালীন এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের লিখিত এই রায়ে জানানো হয়েছে, আসন্ন চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি পুনরায় কার্যকর হবে। এর আগে, গত বছরের (২০২৫ সালের) ২০ নভেম্বর সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। তবে রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, সংসদ চাইলে এই ব্যবস্থার যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় সংযোজন বা বিয়োজন করার আইনি ক্ষমতা রাখে।

এই রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, “এই রায় কেবল কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সমগ্র জাতির জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।” তিনি আরও যোগ করেন, ২০১১ সালে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করা হয়েছিল; সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে সেই ঐতিহাসিক ভুলের সংশোধন হলো।

প্রেক্ষাপট ও বিচারক প্যানেল: উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালে আপিল বিভাগের এক আদেশের মাধ্যমে সেটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাতিল হওয়া সেই রায়টি পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা হয়। এরই চূড়ান্ত ফলশ্রুতিতে সর্বোচ্চ আদালত নতুন এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

এই ঐতিহাসিক রায় প্রদানকারী ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

blank

দীর্ঘ ১১ বছর আত্মগোপনে, অবশেষে পুলিশের জালে গ্রেফতার ডাকাতি মামলার আসামি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল: সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই হবেন সরকার প্রধান

প্রকাশের সময় : ০৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
blank

বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এই ঐতিহাসিক রায়টি প্রকাশ করা হয়। রায়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই নির্বাচনকালীন এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের লিখিত এই রায়ে জানানো হয়েছে, আসন্ন চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি পুনরায় কার্যকর হবে। এর আগে, গত বছরের (২০২৫ সালের) ২০ নভেম্বর সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। তবে রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, সংসদ চাইলে এই ব্যবস্থার যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় সংযোজন বা বিয়োজন করার আইনি ক্ষমতা রাখে।

এই রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, “এই রায় কেবল কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সমগ্র জাতির জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।” তিনি আরও যোগ করেন, ২০১১ সালে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করা হয়েছিল; সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে সেই ঐতিহাসিক ভুলের সংশোধন হলো।

প্রেক্ষাপট ও বিচারক প্যানেল: উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালে আপিল বিভাগের এক আদেশের মাধ্যমে সেটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাতিল হওয়া সেই রায়টি পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা হয়। এরই চূড়ান্ত ফলশ্রুতিতে সর্বোচ্চ আদালত নতুন এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

এই ঐতিহাসিক রায় প্রদানকারী ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।