শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও মানবিক নেতা ড. মোশারফ হোসেন শরীয়তপুর–১ আসনের রাজনীতিতে এনেছেন এক নতুন ধারা—নীতিনিষ্ঠ, সেবামূলক ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতি। শিক্ষা, প্রশাসন ও সমাজসেবায় দীর্ঘ পথচলা তাঁকে জনগণের কাছে এক বিশ্বস্ত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস— “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার পথ নয়, এটি মানুষের সেবার মহাসড়ক।”
শেকড় থেকে বেড়ে ওঠা
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিমপাড় গ্রামের এক শিক্ষানুরাগী ও ধর্মপরায়ণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ড. মোশারফ হোসেন। তাঁর দাদা মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ তালুকদার ছিলেন এলাকার একজন নিবেদিত প্রাণ সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী। সমাজসেবক, তার উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত চেষ্টায় নির্মিত হয়েছিল ছোট বিনোদপুর নদীতে কাঠের পুল। মা মমতাজ বেগম ছিলেন সমাজে নারীদের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ একজন আদর্শ গৃহিণী সরকার মনোনীত ইউপি সদস্য। পিতা মো. মোজাম্মেল হোসেন ছিলেন একজন সৎ ও কর্মনিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা । চাচা টিএম জাহাঙ্গীর হোসেন ও ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজকর্মী। ইসলামপুর পল্লী উন্নয়ন যুব সমিতি, ইসলাম পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিনোদপুর সুবেদার কান্দি উচ্চ বিদ্যালয় (অধুনা লুপ্ত) এই পরিবারের উদ্যোগের ফসল। চার ভাইয়ের মধ্যে ড. মোশারফ বড়। ভাইদের কেউ ব্যাংকার, কেউ শিক্ষা প্রশাসক, কেউ আবার চিকিৎসা প্রশাসক—যা প্রমাণ করে যে শিক্ষা ও সেবাই এই পরিবারের প্রজন্মের উত্তরাধিকার। পরিবারে নৈতিকতা, শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ও মানবসেবার চেতনা থেকেই ড. মোশারফের নেতৃত্বের বীজ অঙ্কুরিত হয়।
ছাত্রজীবনে নেতৃত্বের উজ্জ্বল অধ্যায়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকল্যাণ বিভাগে অধ্যয়নকালে তিনি হয়ে ওঠেন ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল নাম। তখনকার সময়ের আদর্শিক রাজনীতির ধারক ও বাহক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি হিসেবে। ছিলেন ছাত্র শিবিরের তিনটি গুরুত্বপুর্ন কেন্দ্রীয় দপ্তরের সম্পাদক ( শিক্ষা সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক) তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের মানবিক, নৈতিক ও শৃঙ্খলাবোধে উদ্বুদ্ধ করেছিল—যা পরবর্তী জীবনে তাঁর নেতৃত্বগুণ বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিশ্বাস করতেন—“মানুষের চরিত্র গঠনই প্রকৃত শিক্ষা, আর শিক্ষিত সমাজই গড়তে পারে উন্নত দেশ।”
শিক্ষা ও কর্মজীবনের সাফল্য
ড. মোশারফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে বিএএস (সম্মান) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি শরীয়তপুরবাসীর জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন, যা আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা Springer থেকে প্রকাশিত হয়—যা তাঁর গবেষণার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে। শিক্ষাজীবনের পর তিনি শিক্ষকতা ও প্রশাসনে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন। জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে শুরু করে তিনি পরবর্তীতে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি–তে রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে এসব প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠেছে নৈতিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রশাসন।

সমাজসেবায় নিরলস অবদান
ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর মূল দর্শন—“মানুষের সেবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টিই জীবনের লক্ষ্য।” এই আদর্শকে ধারণ করে তিনি আজও কাজ করে যাচ্ছেন। ইউনিয়নে কোন হাইস্কুল না থাকায় শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া এই জনপদের জন্য তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং সকলকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন চিতলিয়া সমিতির হাট উচ্চ বিদ্যালয়। এলাকায় বিদ্যুতায়ন, প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে পশ্চিমপাড় বেড়িবাঁধ নির্মানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মানুষের কল্যাণে তার অবিরাম পদচারনা শরীয়তপুরসহ দেশের নানা প্রান্তে, অসহায় মানুষের পাশে।
তাঁর কিছু উদ্যোগ
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান
অসহায়দের রিকশা, সেলাই মেশিন, অটো, গবাদিপশু প্রদান
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) প্রকল্প
বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প আয়োজন
দরিদ্র পরিবারের ঘর মেরামত ও পুনর্বাসন সহায়তা
তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত সংগঠন
তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত সংগঠনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আলোর পরশ ফাউন্ডেশন, মাটির মায়া, জাজিরা–পালং ফোরাম, পশ্চিমপাড় বেড়িবাঁধ বাস্তবায়ন কমিটি, ব্র্যাক–সমিতিরহাট গণ পাঠাগার ইত্যাদি। ছিলেন শিশু কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা, প্রবাহ সাংস্কৃতিক সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর পরিচালক এবং বাংলাদেশ সম্মনিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) এর আহ্বায়ক।
শিক্ষাবিদ থেকে মানবিক জননেতা
শিক্ষা ও প্রশাসনে সফলতার পর তিনি উপলব্ধি করেন—বৃহত্তর জনগণের সেবা করতে হলে রাজনীতিই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। তাঁর বিশ্বাস—“শিক্ষিত নেতৃত্বই পারে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের পথ দেখাতে।”
এই দর্শন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন।

শরীয়তপুর–১ আসনের উন্নয়নের রূপরেখা
এমপি পদপ্রার্থী হিসেবে ড. মোশারফ হোসেন ঘোষণা দিয়েছেন—শরীয়তপুর–১ আসনকে তিনি একটি “উন্নয়নের মডেল আসন” হিসেবে গড়ে তুলবেন।
তাঁর অগ্রাধিকারের পাঁচ খাত
০১. শিক্ষা: কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও শিক্ষা বৃত্তি প্রকল্প।
০২. কর্মসংস্থান: পেশাগত প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা, বিদেশে কর্মসংস্থানে সহায়তা।
০৩. অবকাঠামো: টেকসই উন্নয়নের ধারায় গ্রামীন সড়ক উন্নয়ন-সেতু নির্মান, পদ্মা পাড়ে স্থায়ী বাঁধ, জাজিরায় শিল্পাঞ্চল গড়েতোলা ও পদ্মা পাড়ে নৌবন্দর স্থাপন।
৪. কৃষি ও মৎস্য: কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি গবেষণাগার ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র।
৫. স্বাস্থ্যসেবা: কমিউনিটি হাসপাতাল, বিনামূল্যে চিকিৎসা কর্মসূচি ও মোবাইল ক্লিনিক।
৬. যুব উন্নয়: খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, সৃজনশীলতা ও মননশীলতার বিকাশ, নেতৃত্বের প্রশিক্ষন, সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে মূল্যবান দেশ গড়ার মূল চালিকা শক্তি যুব সমাজকে আগামীর যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তোলা
সততা ও মূল্যবোধে অবিচল
যেখানে আজ রাজনীতিতে সততা ও নৈতিকতা ক্রমশ বিরল, সেখানে ড. মোশারফ হোসেন এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, “জনগণের আস্থা অর্জনের একমাত্র পথ হলো সৎ, স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি।” তাঁর নেতৃত্বে শরীয়তপুরের রাজনীতিতে ফিরে আসবে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও মানবিকতা।
স্বীকৃতি ও সম্মাননা
জনসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০১৯ সালে ব্রাজিলের আইটিইউকে–বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ২০১৮ সালে বাংলাদেশ পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন থেকে সমাজসেবায় অবদানের জন্য সম্মাননা পান।
আগামী দিনের ভাবনা: আত্মনির্ভর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ
ড. মোশারফের চিন্তা–ভাবনা মূলত জনগণের স্বার্থকেন্দ্রিক। তিনি বিশ্বাস করেন—শিক্ষা, কৃষি, ও কর্মসংস্থান এই তিন শক্তিই পারে শরীয়তপুরকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে।
তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান
বায়োটেক ও ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
প্ল্যান্ট টিস্যু কালচার ও প্রাণী স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ
কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুব কর্মসংস্থান
নারী উদ্যোক্তা ও গ্রামীণ শিল্প (হ্যান্ডিক্রাফট) বিকাশ
গ্রামীণ অঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার
উপসংহার
ড. মোশারফ হোসেন শুধু একজন এমপি প্রার্থী নন—তিনি একজন শিক্ষক, সংগঠক, মানবিক নেতা ও সততার প্রতীক। ক্ষমতা নয়, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জনই তাঁর জীবনের লক্ষ্য। তাঁর মতো নীতিনিষ্ঠ, শিক্ষিত ও মানবিক নেতৃত্বের হাতে শরীয়তপুর–১ আসন সত্যিই হতে পারে একটি “উন্নয়ন, শিক্ষা ও মানবতার মডেল জেলা।”
“আসুন, সকলে মিলে গড়ে তুলি বৈষম্যহীন, ন্যায় ও সম্প্রীতির এক শরীয়তপুর।”

নিজস্ব প্রতিবেদক 




















