বরগুনার তালতলীতে আবারও যৌন নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। একই ব্যক্তির বিকৃত লালসার শিকার হয়েছে দুই নীরপরাধ শিশু।
তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আব্দুল মোল্লার ছেলে মোঃ মোকলেছ মোল্লা (৫৯), যিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তালতলী থানায় দুইটি পৃথক ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন দুই শিশুর অভিভাবক। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত মোকলেছ মোল্লা টাকা ও খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়।
প্রথম ঘটনায়, গত ৪ অক্টোবর দুপুরে একটি শিশুকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে বারান্দার খাটে শুইয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটি চিৎকার দিলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। পরে শিশুটি কোনোমতে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু, ভয়ে দীর্ঘদিন কিছুই জানায়নি পরিবারকে। শিশুটি যখন তীব্র ব্যথায় কষ্ট পেতে থাকে, তখন তার আচরণ দেখে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে।

দ্বিতীয় ঘটনায়, গত ৬ অক্টোবর বিকেলে একই ব্যক্তি প্রতিবেশীর বাড়িতে প্রবেশ করে আরেকটি ৯ বছর বয়সী শিশুকে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। পরিবার বাইরে থাকায় শিশুটি অসহায় অবস্থায় ওই লম্পটের শিকার হয়। পরে শারীরিক যন্ত্রণায় কাঁদতে থাকলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
দুই পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, মোকলেছ মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ছোট ছোট মেয়েদের টাকা ও খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তার চরিত্র নিয়ে এলাকাজুড়ে অসন্তোষ থাকলেও কেউ সাহস করে মুখ খোলেনি।
এ বিষয়ে মোকলেছ মোল্লার পরিবারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহ জালাল নিশ্চিত করেছেন যে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুইটি পৃথক ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এই ধরনের পশুপ্রবৃত্তির মানুষ সমাজে থাকার কোনো অধিকার নেই। এমন নরপিশাচদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সচেতন মহলের আরো চাওয়া কোন দিন যেন এরকম নরপশু সমাজে জন্ম না নেয়। তাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দাবি, অপরাধী যেন এক বিন্দু পরিমান ছার না পায়।

মোঃ খালেদ মাসুদ, তালতলী (বরগুনা) 



















