ঢাকা রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে আবাসিক হোটেলের জমি দখলের অভিযোগ

blank

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গভীর রাতে একটি আবাসিক হোটেলের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ভাগিনা কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহকারী বাইতুলমাল সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী হোটেল মালিক ও কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মোতালেব শরীফ।

 

ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তিনি মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজির নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন জমির পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় তারা সীমানা প্রাচীর ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে ঘর নির্মাণের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। হোটেল কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।

 

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমএ মোতালেব শরীফ বলেন, “কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন ১২৬৪ ও ১২৬২ ডি নম্বর খতিয়ানের জমি আমার পিতার মৃত্যুর পর ৫৬/১৪ নম্বর বণ্টন মোকদ্দমার মাধ্যমে আদালত ভাই-বোনদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। ২০১৮ সালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে আমরা জমির দখল বুঝে পাই।”

 

তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে আত্মীয় ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে সাহেদা, জাহানারা ও শাহীনুর ৩৮৫/২৩ নম্বর ডিক্রি রদের মামলা করেন, যার আদেশ হয় ২০২৪ সালে। তবুও গত ৩ ফেব্রুয়ারি তারা আমার হোটেলের পেছনে ঘর নির্মাণের হুমকি দেয়। এর প্রেক্ষিতে আমি মহিপুর থানায় অভিযোগ করি।”

 

ভুক্তভোগীর দাবি, ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে অভিযুক্ত জাহানারা, শাহীনুর ও সাহেদার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নেতা শাহাবুদ্দিন ফরাজি, শামিমসহ আরও কয়েকজন মিলে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে অবৈধভাবে জমি ও হোটেল দখলের চেষ্টা করে।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমার বাবার মৃত্যুর পর বোনদের জমির অংশ বাবদ টাকা পরিশোধ করা হলেও তারা এখনো দলিল বুঝিয়ে দেয়নি। দলিল না দিয়েই জোরপূর্বক আমার জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।”

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজি বলেন, “আমি কোনো জমি দখল করতে যাইনি। এখানে আমার মা ও খালারা তাদের ন্যায্য অংশ পাবে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের জায়গা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা কোনো অন্যায় করিনি।”

 

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, “৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বিষয়টি জমি সংক্রান্ত বিরোধ। এটি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য। তারপরও আমরা সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।”

জনপ্রিয় খবর
blank

নলডাঙ্গাকে ‘মডেল পৌরসভা’ গড়ার প্রত্যয় মেয়র প্রার্থী এ্যাড. জাহিদের

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে আবাসিক হোটেলের জমি দখলের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
blank

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গভীর রাতে একটি আবাসিক হোটেলের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ভাগিনা কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহকারী বাইতুলমাল সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী হোটেল মালিক ও কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মোতালেব শরীফ।

 

ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তিনি মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজির নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন জমির পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় তারা সীমানা প্রাচীর ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে ঘর নির্মাণের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। হোটেল কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।

 

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমএ মোতালেব শরীফ বলেন, “কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন ১২৬৪ ও ১২৬২ ডি নম্বর খতিয়ানের জমি আমার পিতার মৃত্যুর পর ৫৬/১৪ নম্বর বণ্টন মোকদ্দমার মাধ্যমে আদালত ভাই-বোনদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। ২০১৮ সালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে আমরা জমির দখল বুঝে পাই।”

 

তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে আত্মীয় ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে সাহেদা, জাহানারা ও শাহীনুর ৩৮৫/২৩ নম্বর ডিক্রি রদের মামলা করেন, যার আদেশ হয় ২০২৪ সালে। তবুও গত ৩ ফেব্রুয়ারি তারা আমার হোটেলের পেছনে ঘর নির্মাণের হুমকি দেয়। এর প্রেক্ষিতে আমি মহিপুর থানায় অভিযোগ করি।”

 

ভুক্তভোগীর দাবি, ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে অভিযুক্ত জাহানারা, শাহীনুর ও সাহেদার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নেতা শাহাবুদ্দিন ফরাজি, শামিমসহ আরও কয়েকজন মিলে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে অবৈধভাবে জমি ও হোটেল দখলের চেষ্টা করে।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমার বাবার মৃত্যুর পর বোনদের জমির অংশ বাবদ টাকা পরিশোধ করা হলেও তারা এখনো দলিল বুঝিয়ে দেয়নি। দলিল না দিয়েই জোরপূর্বক আমার জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।”

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজি বলেন, “আমি কোনো জমি দখল করতে যাইনি। এখানে আমার মা ও খালারা তাদের ন্যায্য অংশ পাবে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের জায়গা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা কোনো অন্যায় করিনি।”

 

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, “৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বিষয়টি জমি সংক্রান্ত বিরোধ। এটি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য। তারপরও আমরা সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।”