কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় জন্ম নিবন্ধন সেবায় চলছে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম। সরকারি সার্ভারে রয়েছে হাজারো তথাকথিত “ভুতুড়ে” জন্ম নিবন্ধন— যেগুলোর নেই জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা কিংবা অভিভাবকের সঠিক তথ্য। ফলে প্রকৃত নাগরিকরা নতুন করে নিবন্ধন করতে গেলে বা পুরনো নিবন্ধন সংশোধনের সময় পড়ছেন “ডুপ্লিকেট পসিবল” সমস্যায়।
তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মাহারুফ জানান, নিজের জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সার্ভারে তার নামে একটি পুরনো নিবন্ধন আগে থেকেই রয়েছে। সেখানে নেই জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানা, অথচ নিবন্ধনটি নারায়ণগঞ্জ জেলার তথ্যের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “এখন কোথায় যাব বুঝতে পারছি না। ইউনিয়ন অফিস থেকে উপজেলা অফিসে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না।”
প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরের সামনে শত শত মানুষ জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য লাইন ধরে অপেক্ষা করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তারা ঘুষ দিয়ে দ্রুত কাজ করাতে পারছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন ঘুরেও সেবা পাচ্ছেন না।
দিগদাইড় ইউনিয়নের আরেক বাসিন্দা সেবক মিয়া বলেন, “ছেলের জন্ম নিবন্ধনে করতে এসে দেখি নিজের নিবন্ধনে ইংরেজিতে নাম থাকায় সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের জন্য এলে সারাদিন বসে থাকতে হয়। টাকা দিলে কাজ হয়, না দিলে হয় না।”
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “যাদের জন্ম নিবন্ধনে ‘ডুপ্লিকেট পসিবল’ দেখায়, তাদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলায় পাঠাতে হয়। আমি নিজে থেকে এটা সংশোধন করতে পারি না।” তিনি আরও বলেন, “আমি কি আমার চাকরি হারাবো এই জন্ম নিবন্ধন করে?”
স্থানীয়রা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে জন্ম নিবন্ধন সার্ভারে জমে থাকা ভুতুড়ে তথ্যই এখন প্রকৃত নাগরিকদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত সার্ভার হালনাগাদ, তথ্য যাচাই ও দুর্নীতি দমন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

বুরহান খান, কিশোরগঞ্জ 





















