চুয়াডাঙ্গা-২ সংসদীয় আসন গঠিত হয়েছে দামুড়হুদা, জীবননগর ও দর্শনা পৌরসভা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নসহ মোট ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে। ভারতের সীমান্তঘেঁষা এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের অভিযোগে আলোচিত।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এ অঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে বেকারত্ব এখানে অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় কাজের সংকটে কিছু মানুষ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলেও স্থানীয়রা জানান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তরুণদের একাংশ মনে করছেন, শিল্পায়নভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলাতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু বর্তমানে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।
তার ঘোষিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে— কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নারীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল হাসপাতাল চালু, এবং শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন।
সম্প্রতি জীবননগরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “আমরা চাকরি করি না— এটা আমাদের অন্যতম গর্বের বিষয়। কিন্তু সমাজে যারা শিল্প পরিচালনা করি, আমাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। ব্যবসায়ীদের কর ফাঁকিবাজ বা দুর্নীতিবাজ হিসেবে দেখা হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে রাজনীতিবিদদের।”
স্থানীয় যুবক রাশেদ মাহমুদ বলেন, “পড়াশোনা শেষ করে কাজের জন্য আমাদের বাইরে যেতে হয়। এখানে শিল্পকারখানা হলে এলাকা ছাড়তে হতো না। বাবু খানের বক্তব্যে মনে হয়েছে তিনি আমাদের সমস্যাটা বোঝেন।”
জীবননগর বাজারের ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, “আমরা ব্যবসা করে কর্মসংস্থান তৈরি করি। কিন্তু নানা কারণে হয়রানির শিকার হই। বাবু খান নির্বাচিত হলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে বলে আমরা আশা করি।”
দর্শনার তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “তিনি শিল্প ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। কীভাবে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হয়, তা জানেন। আমরা চাই তিনি নির্বাচিত হয়ে এখানে কল-কারখানা স্থাপনে উদ্যোগ নিন, যাতে যুবকেরা অবৈধ পথে না যায়।”
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ ঘটলে চুয়াডাঙ্গা-২ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। তবে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই এখন দেখার বিষয়।

মোঃ মিনারুল ইসলাম, চুুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 














