ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে থেমে যাওয়ার আশঙ্কা উন্নয়ন কার্যক্রম, সড়ক অবরোধ

blank

খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে ইট সংকটের কারণে থেমে যাওয়ার আশঙ্কা দিয়েছে উন্নয়ন কার্যক্রমে। যার প্রভাবে থমকে পড়তে বসেছে চলমান উন্নয়নমূলক কাজ। এমন পরিস্থিতিতেই প্রশাসনের অভিযানের কারণে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় ইটভাটা বন্ধ থাকায় গেল সপ্তাহে মাটিরাঙ্গার ৪টি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে প্রস্তুতকৃত ইট নষ্ট করে দিয়েছেন প্রশাসন। একইসঙ্গে, ইটভাটা মালিকদের হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ভাটার সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

ইটভাটা বন্ধের কারণে জেলার ৯ উপজেলায় নানা উন্নয়ন প্রকল্প হুমকির মুখে পড়ছে। ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা বলছেন, ইট না থাকলে এসব কাজ কার্যত অসম্ভব। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও বাড়ছে ক্ষোভ।

 

ক্ষোভের বহি প্রকাশ হিসাবে রোববার (২১ ডিসেম্বর) এই সংকট নিরসন ও বন্ধ ইটভাটা চালুর দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইটভাটা মালিক, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সড়কে অবস্থান নেয়। এরপর দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সেখানে সড়ক অবরোধ চলতে থাকে। এ সময় বিকল্প পথে ছোট যানবাহন চলাচল করলেও বন্ধ হয়ে যায় যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যান চলাচল। ফলে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় যানজট ও চরম জনভোগান্তি।

 

কর্মসূচি শেষে ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার সাদাত বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার আশ্বাস দেন।

 

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূঁইয়া, ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাহবুব আলম সবুজ, সদস্য সচিব সমর বিকাশ চাকমা, উপজাতি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি রিপ রিপ চাকমা, রাজমিস্ত্রি কল্যাণ সমবায় সভাপতি মোঃ রাজ্জাক এবং ট্রাক্টর চালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম প্রমূখ।

 

খাগড়াছড়ি ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলার কোথাও একটি ইটভাটাও চালু নেই। এর ফলে পুরো জেলায় মারাত্মক ইট সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে শতশত কোটি টাকার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ইটভাটা-সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

 

তিনি আরও জানান, পরিবেশের সকল নিয়ম-কানুন মেনে ইটভাটা পরিচালনার অনুমতি দিলে উন্নয়ন কার্যক্রম সচল হবে এবং শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষা পাবে।

 

পার্বত্যবাসীর অভিমত, তিন পার্বত্য জেলায় কোন শিল্প-কারখানা নেই। পরিবেশ দূষণের দোহাই দিয়ে ইটভাটা বন্ধ রাখায় সরকারি উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শত শত গরিব শ্রমজীবী পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়ছে। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ— ইটভাটা চালু করুন, নয়তো শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান করে দিন।

জনপ্রিয় খবর
blank

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ‘উইনটার কার্নিভাল অ্যান্ড পৌষ পার্বণ’ অনুষ্ঠিত

খাগড়াছড়িতে থেমে যাওয়ার আশঙ্কা উন্নয়ন কার্যক্রম, সড়ক অবরোধ

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
blank

খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে ইট সংকটের কারণে থেমে যাওয়ার আশঙ্কা দিয়েছে উন্নয়ন কার্যক্রমে। যার প্রভাবে থমকে পড়তে বসেছে চলমান উন্নয়নমূলক কাজ। এমন পরিস্থিতিতেই প্রশাসনের অভিযানের কারণে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় ইটভাটা বন্ধ থাকায় গেল সপ্তাহে মাটিরাঙ্গার ৪টি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে প্রস্তুতকৃত ইট নষ্ট করে দিয়েছেন প্রশাসন। একইসঙ্গে, ইটভাটা মালিকদের হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ভাটার সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

ইটভাটা বন্ধের কারণে জেলার ৯ উপজেলায় নানা উন্নয়ন প্রকল্প হুমকির মুখে পড়ছে। ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা বলছেন, ইট না থাকলে এসব কাজ কার্যত অসম্ভব। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও বাড়ছে ক্ষোভ।

 

ক্ষোভের বহি প্রকাশ হিসাবে রোববার (২১ ডিসেম্বর) এই সংকট নিরসন ও বন্ধ ইটভাটা চালুর দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইটভাটা মালিক, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সড়কে অবস্থান নেয়। এরপর দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সেখানে সড়ক অবরোধ চলতে থাকে। এ সময় বিকল্প পথে ছোট যানবাহন চলাচল করলেও বন্ধ হয়ে যায় যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যান চলাচল। ফলে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় যানজট ও চরম জনভোগান্তি।

 

কর্মসূচি শেষে ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার সাদাত বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার আশ্বাস দেন।

 

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূঁইয়া, ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাহবুব আলম সবুজ, সদস্য সচিব সমর বিকাশ চাকমা, উপজাতি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি রিপ রিপ চাকমা, রাজমিস্ত্রি কল্যাণ সমবায় সভাপতি মোঃ রাজ্জাক এবং ট্রাক্টর চালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম প্রমূখ।

 

খাগড়াছড়ি ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলার কোথাও একটি ইটভাটাও চালু নেই। এর ফলে পুরো জেলায় মারাত্মক ইট সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে শতশত কোটি টাকার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ইটভাটা-সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

 

তিনি আরও জানান, পরিবেশের সকল নিয়ম-কানুন মেনে ইটভাটা পরিচালনার অনুমতি দিলে উন্নয়ন কার্যক্রম সচল হবে এবং শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষা পাবে।

 

পার্বত্যবাসীর অভিমত, তিন পার্বত্য জেলায় কোন শিল্প-কারখানা নেই। পরিবেশ দূষণের দোহাই দিয়ে ইটভাটা বন্ধ রাখায় সরকারি উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শত শত গরিব শ্রমজীবী পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়ছে। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ— ইটভাটা চালু করুন, নয়তো শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান করে দিন।