ঢাকা সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা নিয়ে প্রশ্ন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 40
blank

নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের প্রবেশ বা তালা খোলার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব তৎপরতা দলীয় নির্দেশে নাকি ব্যক্তিগত উদ্যোগে, কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দলটির নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বা কোথাও কোথাও অবস্থানও নিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আবার কিছু স্থানে কার্যালয় খোলার পর পাল্টা দখল, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

আত্মগোপনে থাকা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম দাবি করেছেন, দলীয় কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি, তাই সেখানে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে স্বাভাবিক অধিকার। তার ভাষ্য, কোনো ধরনের সমঝোতা নয়—তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশের প্রত্যাশায় কার্যালয়ে যাচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।

 

তবে দলীয় সূত্র বলছে, ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ কারণে অনেক জায়গায় নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে সক্রিয় হচ্ছেন। ছাত্রলীগের এক কর্মী রিহান সরদার জানান, কেন্দ্রীয় বার্তার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় এই প্রবণতা বেড়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন চিত্রও পাওয়া যাচ্ছে। দলীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, নির্বাচনের আগে ভোটের সমর্থন পাওয়ার আশায় বিএনপি বা জামায়াতের কিছু প্রভাবশালী নেতা স্থানীয় জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্বাচনের পর কার্যালয় খোলার বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে একই দলের অন্য গ্রুপ বাধা দেওয়ায় কোথাও কোথাও সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।

নির্বাচনের পরদিন পঞ্চগড়ে একটি কার্যালয়ের তালা খোলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার উপস্থিতি দেখা যায়, যদিও তিনি পরে দাবি করেন কার্যালয়টি আওয়ামী লীগের—তা তিনি জানতেন না। এরপর চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় কার্যালয় খুলে স্লোগান দেওয়ার খবর পাওয়া যায়। আবার ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কার্যালয় খোলার পর সেখানে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

রাজধানীতেও প্রতীকী উপস্থিতির ঘটনা ঘটেছে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা টানিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান নেন কয়েকজন নেতাকর্মী। ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। তার মতে, আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী দেশে অবস্থান করছেন এবং অনেকে কারাগারে রয়েছেন— এই বাস্তবতায় স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হলে তা ইতিবাচক হতে পারে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মনে করেন, নির্বাচনের পর কার্যালয় খোলার ঘটনাগুলো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার একটি প্রক্রিয়ার সূচনা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় এসব তৎপরতা আইনগত ও রাজনৈতিক— দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে। সরকারের অবস্থান, আদালতের প্রক্রিয়া এবং মাঠের রাজনৈতিক বাস্তবতা— সব মিলিয়ে আগামী দিনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কোন পথে এগোবে, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র/ বিবিসি বাংলা

 

 

জনপ্রিয় খবর
blank

নলডাঙ্গাকে ‘মডেল পৌরসভা’ গড়ার প্রত্যয় মেয়র প্রার্থী এ্যাড. জাহিদের

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ১২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
blank

নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের প্রবেশ বা তালা খোলার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব তৎপরতা দলীয় নির্দেশে নাকি ব্যক্তিগত উদ্যোগে, কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দলটির নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বা কোথাও কোথাও অবস্থানও নিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আবার কিছু স্থানে কার্যালয় খোলার পর পাল্টা দখল, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

আত্মগোপনে থাকা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম দাবি করেছেন, দলীয় কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি, তাই সেখানে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে স্বাভাবিক অধিকার। তার ভাষ্য, কোনো ধরনের সমঝোতা নয়—তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশের প্রত্যাশায় কার্যালয়ে যাচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।

 

তবে দলীয় সূত্র বলছে, ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ কারণে অনেক জায়গায় নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে সক্রিয় হচ্ছেন। ছাত্রলীগের এক কর্মী রিহান সরদার জানান, কেন্দ্রীয় বার্তার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় এই প্রবণতা বেড়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন চিত্রও পাওয়া যাচ্ছে। দলীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, নির্বাচনের আগে ভোটের সমর্থন পাওয়ার আশায় বিএনপি বা জামায়াতের কিছু প্রভাবশালী নেতা স্থানীয় জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্বাচনের পর কার্যালয় খোলার বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে একই দলের অন্য গ্রুপ বাধা দেওয়ায় কোথাও কোথাও সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।

নির্বাচনের পরদিন পঞ্চগড়ে একটি কার্যালয়ের তালা খোলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার উপস্থিতি দেখা যায়, যদিও তিনি পরে দাবি করেন কার্যালয়টি আওয়ামী লীগের—তা তিনি জানতেন না। এরপর চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় কার্যালয় খুলে স্লোগান দেওয়ার খবর পাওয়া যায়। আবার ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কার্যালয় খোলার পর সেখানে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

রাজধানীতেও প্রতীকী উপস্থিতির ঘটনা ঘটেছে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা টানিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান নেন কয়েকজন নেতাকর্মী। ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। তার মতে, আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী দেশে অবস্থান করছেন এবং অনেকে কারাগারে রয়েছেন— এই বাস্তবতায় স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হলে তা ইতিবাচক হতে পারে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মনে করেন, নির্বাচনের পর কার্যালয় খোলার ঘটনাগুলো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার একটি প্রক্রিয়ার সূচনা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় এসব তৎপরতা আইনগত ও রাজনৈতিক— দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে। সরকারের অবস্থান, আদালতের প্রক্রিয়া এবং মাঠের রাজনৈতিক বাস্তবতা— সব মিলিয়ে আগামী দিনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কোন পথে এগোবে, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র/ বিবিসি বাংলা