ঢাকা শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়ক সংস্কারে কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম

blank

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক মেরামত কাজে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কার কাজ চুক্তি ও প্রকৌশল নকশা উপেক্ষা করে ঠিকাদারের খেয়াল খুশিমতো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, সড়কের দুই পাশে চুক্তি অনুযায়ী তিন ফিট প্রশস্ত ও মানসম্মত সাব-বেজ ও সোল্ডার নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। বরং সড়কের পাশের খাল থেকে কাদামাটি তুলে সরু ও দুর্বল সোল্ডার তৈরি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, সাব-বেজে ব্যবহার করা হচ্ছে অতি নিম্নমানের ইটের খোয়া ও বালু, যা প্রকৌশল মানদণ্ডের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এতে বর্ষা মৌসুমে সড়কের দুই পাশে ভাঙন ও ধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

এমন অনিয়ম চোখে পড়ার পর সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে।

 

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে কাটাগাড়ী পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের কাজ পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ২০ কোটি ৫২ লাখ ৬৫ হাজার ১৩৭ টাকা, আর চুক্তি মূল্য ১৯ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ১৯৫ টাকা। তবে কাজটি বাস্তবায়ন করছে সিরাজগঞ্জের মির্জা সাইফুল ও মাহবুব চৌধুরী নামে দুই সাব-ঠিকাদার।

blank

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাটাগাড়ী সড়কটি সংস্কারের দাবি ছিল তাদের প্রাণের দাবি। কিন্তু বর্তমানে যে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চলছে, তাতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়দের আপত্তি ও বাধা উপেক্ষা করেই সাব-ঠিকাদাররা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

তাড়াশ পৌর এলাকার ভাদাশ গ্রামের শাহ আলম, আফছার আলী আকন্দ, আলমাস, জয়নাল, আনোয়ার, রতন মিয়া, মোস্তফা, মামুন, সোহেল ও আব্দুল বাছেদসহ অভিযোগকারীরা জানান, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ১১০ জনের স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাদাশ ও সেরাজপুর গ্রাম এলাকায় সড়কের পাশের খাল থেকে কাদামাটি তুলে সোল্ডারে ফেলা হচ্ছে। ভোগলমান চারমাথা এলাকায় নিম্নমানের ইট ও খোয়া মজুদ করে রাখা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও নিম্নমানের খোয়ার ওপর মাঝারি মানের খোয়া ফেলে তা ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াহাব মনির বলেন, সাব-ঠিকাদাররা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছেন না। কোনো ধরনের ল্যাব টেস্ট ছাড়াই নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে এবং স্পেসিফিকেশন বহির্ভূতভাবে সড়কের সোল্ডার নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে সাব-ঠিকাদারদের একাধিকবার লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

 

এদিকে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. ইউনুস এন্ড ব্রাদার্সের কোনো প্রতিনিধি পাওয়া যায়নি। এমনকি উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের কাছেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর যোগাযোগ নম্বর নেই বলে জানা গেছে।

 

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি, কী করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগপত্রটি তার হাতে পৌঁছায়নি। তবে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সরকারের কোটি কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে।

জনপ্রিয় খবর
blank

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমীরসহ আহত ১০॥ ১২টি বাড়ি-দোকান ভাংচুর ॥ আটক চার

কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়ক সংস্কারে কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম

প্রকাশের সময় : ০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
blank

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক মেরামত কাজে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কার কাজ চুক্তি ও প্রকৌশল নকশা উপেক্ষা করে ঠিকাদারের খেয়াল খুশিমতো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, সড়কের দুই পাশে চুক্তি অনুযায়ী তিন ফিট প্রশস্ত ও মানসম্মত সাব-বেজ ও সোল্ডার নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। বরং সড়কের পাশের খাল থেকে কাদামাটি তুলে সরু ও দুর্বল সোল্ডার তৈরি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, সাব-বেজে ব্যবহার করা হচ্ছে অতি নিম্নমানের ইটের খোয়া ও বালু, যা প্রকৌশল মানদণ্ডের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এতে বর্ষা মৌসুমে সড়কের দুই পাশে ভাঙন ও ধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

এমন অনিয়ম চোখে পড়ার পর সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে।

 

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে কাটাগাড়ী পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের কাজ পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ২০ কোটি ৫২ লাখ ৬৫ হাজার ১৩৭ টাকা, আর চুক্তি মূল্য ১৯ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ১৯৫ টাকা। তবে কাজটি বাস্তবায়ন করছে সিরাজগঞ্জের মির্জা সাইফুল ও মাহবুব চৌধুরী নামে দুই সাব-ঠিকাদার।

blank

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাটাগাড়ী সড়কটি সংস্কারের দাবি ছিল তাদের প্রাণের দাবি। কিন্তু বর্তমানে যে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চলছে, তাতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়দের আপত্তি ও বাধা উপেক্ষা করেই সাব-ঠিকাদাররা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

তাড়াশ পৌর এলাকার ভাদাশ গ্রামের শাহ আলম, আফছার আলী আকন্দ, আলমাস, জয়নাল, আনোয়ার, রতন মিয়া, মোস্তফা, মামুন, সোহেল ও আব্দুল বাছেদসহ অভিযোগকারীরা জানান, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ১১০ জনের স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাদাশ ও সেরাজপুর গ্রাম এলাকায় সড়কের পাশের খাল থেকে কাদামাটি তুলে সোল্ডারে ফেলা হচ্ছে। ভোগলমান চারমাথা এলাকায় নিম্নমানের ইট ও খোয়া মজুদ করে রাখা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও নিম্নমানের খোয়ার ওপর মাঝারি মানের খোয়া ফেলে তা ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াহাব মনির বলেন, সাব-ঠিকাদাররা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছেন না। কোনো ধরনের ল্যাব টেস্ট ছাড়াই নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে এবং স্পেসিফিকেশন বহির্ভূতভাবে সড়কের সোল্ডার নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে সাব-ঠিকাদারদের একাধিকবার লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

 

এদিকে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. ইউনুস এন্ড ব্রাদার্সের কোনো প্রতিনিধি পাওয়া যায়নি। এমনকি উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের কাছেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর যোগাযোগ নম্বর নেই বলে জানা গেছে।

 

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি, কী করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগপত্রটি তার হাতে পৌঁছায়নি। তবে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সরকারের কোটি কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে।