ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির মিলনস্থল: তাড়াশের ৩০০ বছরের দই মেলা

blank

চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিদ্যা দেবী সরস্বতী পূজা উপলক্ষে শুক্রবার দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দই মেলা। শতাব্দীপ্রাচীন এই মেলাকে ঘিরে তাড়াশে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন উৎসবের আমেজ।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই তাড়াশের ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ির সামনে রসিক রায় মন্দিরসংলগ্ন পৌর বাজার ঈদগা মাঠে দইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন বিভিন্ন এলাকার দই ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার সকাল থেকে দই কিনতে হিন্দু-মুসলিমসহ নানা ধর্ম ও শ্রেণিপেশার মানুষের ঢল নামে মেলা প্রাঙ্গণে।

এই ঐতিহ্যবাহী দই মেলায় তাড়াশ, শেরপুর, রায়গঞ্জ, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নামকরা ঘোষেরা তাঁদের তৈরি দই নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। মেলায় দইয়ের পাশাপাশি খই, চিড়া, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, কদমা ও নানা ধরনের মিষ্টান্নের বেচাকেনাও জমে ওঠে।

এ অঞ্চলের দইয়ের স্বাদ ও মানের কারণে দইয়ের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও পরিচিতি। ক্ষীরসা দই, শাহী দই, শেরপুরের দই, বগুড়ার দই, টক দই, শ্রীপুরী দই—এমন নানা বাহারি নামের দই ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়ে। নামভেদে দইয়ের দামের মধ্যেও দেখা যায় তারতম্য। বিশেষ করে বগুড়ার শেরপুর, রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা, গুরুদাসপুরের শ্রীপুর, উল্লাপাড়ার ধরইল, চাটমোহরের হান্ডিয়াল ও তাড়াশের দই মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।

মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন এলাকার ঘোষেরা জানান, দুধের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরি এবং দইয়ের পাত্রের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দইয়ের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও শতাব্দীপ্রাচীন এই বার্ষিক মেলায় অংশ নিতে পেরে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের অনেকেরই এই দই ব্যবসা বংশপরাক্রমে চলে আসছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও তাড়াশ উপজেলা সনাতন সংস্থার সভাপতি তপন কুমার গোস্বামী বলেন, “পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই আমরা এই ঐতিহাসিক দই মেলার ঐতিহ্য বহন করে আসছি। মেলা উপলক্ষে আত্মীয়স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলিত হয়ে এই মেলার আয়োজন করে থাকি—এটাই আমাদের বড় শক্তি।”

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা তাড়াশের এই দই মেলা আজ শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

জনপ্রিয় খবর
blank

বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ইউনিয়ন আমীরসহ আহত ১০॥ ১২টি বাড়ি-দোকান ভাংচুর ॥ আটক চার

ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির মিলনস্থল: তাড়াশের ৩০০ বছরের দই মেলা

প্রকাশের সময় : ০৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
blank

চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিদ্যা দেবী সরস্বতী পূজা উপলক্ষে শুক্রবার দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দই মেলা। শতাব্দীপ্রাচীন এই মেলাকে ঘিরে তাড়াশে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন উৎসবের আমেজ।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই তাড়াশের ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ির সামনে রসিক রায় মন্দিরসংলগ্ন পৌর বাজার ঈদগা মাঠে দইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন বিভিন্ন এলাকার দই ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার সকাল থেকে দই কিনতে হিন্দু-মুসলিমসহ নানা ধর্ম ও শ্রেণিপেশার মানুষের ঢল নামে মেলা প্রাঙ্গণে।

এই ঐতিহ্যবাহী দই মেলায় তাড়াশ, শেরপুর, রায়গঞ্জ, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নামকরা ঘোষেরা তাঁদের তৈরি দই নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। মেলায় দইয়ের পাশাপাশি খই, চিড়া, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, কদমা ও নানা ধরনের মিষ্টান্নের বেচাকেনাও জমে ওঠে।

এ অঞ্চলের দইয়ের স্বাদ ও মানের কারণে দইয়ের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও পরিচিতি। ক্ষীরসা দই, শাহী দই, শেরপুরের দই, বগুড়ার দই, টক দই, শ্রীপুরী দই—এমন নানা বাহারি নামের দই ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়ে। নামভেদে দইয়ের দামের মধ্যেও দেখা যায় তারতম্য। বিশেষ করে বগুড়ার শেরপুর, রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা, গুরুদাসপুরের শ্রীপুর, উল্লাপাড়ার ধরইল, চাটমোহরের হান্ডিয়াল ও তাড়াশের দই মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।

মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন এলাকার ঘোষেরা জানান, দুধের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরি এবং দইয়ের পাত্রের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দইয়ের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও শতাব্দীপ্রাচীন এই বার্ষিক মেলায় অংশ নিতে পেরে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের অনেকেরই এই দই ব্যবসা বংশপরাক্রমে চলে আসছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও তাড়াশ উপজেলা সনাতন সংস্থার সভাপতি তপন কুমার গোস্বামী বলেন, “পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই আমরা এই ঐতিহাসিক দই মেলার ঐতিহ্য বহন করে আসছি। মেলা উপলক্ষে আত্মীয়স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলিত হয়ে এই মেলার আয়োজন করে থাকি—এটাই আমাদের বড় শক্তি।”

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা তাড়াশের এই দই মেলা আজ শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।