ঢাকা রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি: হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি আমিরাতের

blank

চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কোনো দেশই ‘জিম্মি’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।

সম্প্রতি এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে আনোয়ার গারগাশ আমিরাতের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, তারা কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা চান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা এমন কোনো অসম্পূর্ণ চুক্তি চাই না যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মতো মৌলিক সমস্যাগুলোকে এড়িয়ে যায়। এই মূল সংকটগুলো সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও বিপদ আরও বাড়বে।”

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। গারগাশের মতে, এই জলপথের নিরাপত্তা কেবল আঞ্চলিক ইস্যু নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তিনি দাবি করেন, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতাকে যেকোনো শান্তি চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে এবং একে কোনোভাবেই কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।

এদিকে, আঞ্চলিক এই সংঘাত চরম উত্তপ্ত রূপ নিয়েছে। গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না করলে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে তেহরানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে, গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আমিরাত সবচেয়ে বেশি ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। আনোয়ার গারগাশ একে আমিরাতের জন্য ‘চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি’ হিসেবে অভিহিত করলেও দাবি করেন, এই চাপের মুখেও দেশটির অর্থনীতি বেশ সুসংহত রয়েছে।

তিনি মন্তব্য করেন, ইরানের বর্তমান আক্রমণাত্মক কৌশল আরব দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরানোর বদলে উল্টো ওয়াশিংটনের আরও কাছে নিয়ে আসছে। নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে সহায়তার জন্য ফ্রান্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

পরিশেষে গারগাশ বলেন, “আমিরাত ইরানের সাথে শত্রুতা চায় না, তবে বর্তমান তেহরান সরকারের ওপর আস্থা রাখা কঠিন। তাদের বর্তমান ধ্বংসাত্মক নীতি কেবল শাসকগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য, যা অঞ্চলের মঙ্গলের অন্তরায়।”

জনপ্রিয় খবর
blank

বঙ্গবন্ধুর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি: হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি আমিরাতের

প্রকাশের সময় : ০৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
blank

চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কোনো দেশই ‘জিম্মি’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।

সম্প্রতি এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে আনোয়ার গারগাশ আমিরাতের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, তারা কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা চান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা এমন কোনো অসম্পূর্ণ চুক্তি চাই না যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মতো মৌলিক সমস্যাগুলোকে এড়িয়ে যায়। এই মূল সংকটগুলো সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও বিপদ আরও বাড়বে।”

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। গারগাশের মতে, এই জলপথের নিরাপত্তা কেবল আঞ্চলিক ইস্যু নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তিনি দাবি করেন, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতাকে যেকোনো শান্তি চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে এবং একে কোনোভাবেই কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।

এদিকে, আঞ্চলিক এই সংঘাত চরম উত্তপ্ত রূপ নিয়েছে। গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না করলে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে তেহরানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে, গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আমিরাত সবচেয়ে বেশি ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। আনোয়ার গারগাশ একে আমিরাতের জন্য ‘চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি’ হিসেবে অভিহিত করলেও দাবি করেন, এই চাপের মুখেও দেশটির অর্থনীতি বেশ সুসংহত রয়েছে।

তিনি মন্তব্য করেন, ইরানের বর্তমান আক্রমণাত্মক কৌশল আরব দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরানোর বদলে উল্টো ওয়াশিংটনের আরও কাছে নিয়ে আসছে। নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে সহায়তার জন্য ফ্রান্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

পরিশেষে গারগাশ বলেন, “আমিরাত ইরানের সাথে শত্রুতা চায় না, তবে বর্তমান তেহরান সরকারের ওপর আস্থা রাখা কঠিন। তাদের বর্তমান ধ্বংসাত্মক নীতি কেবল শাসকগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য, যা অঞ্চলের মঙ্গলের অন্তরায়।”