গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যৌথ সামরিক অভিযান ১৮তম দিনে (১৭ মার্চ, মঙ্গলবার) গড়িয়েছে। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এই সংঘাতে ইন্ধন না জোগালেও, বর্তমানে তাদের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
অনেক দেশই এখন ওয়াশিংটনকে এখনই যুদ্ধ বন্ধ না করার জন্য জোরালো আর্জি জানাচ্ছে। রয়টার্সকে তিনটি উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, আরব দেশগুলোর মূল চাওয়া হলো—উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট এবং তেলনির্ভর অর্থনীতির জন্য ইরান যেন ভবিষ্যতে আর কোনোভাবেই হুমকি হয়ে উঠতে না পারে।
একই সাথে পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের পাঁচজন কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যেন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়, সে বিষয়ে পাল্টা চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন, সামরিক অভিযানের পক্ষে আঞ্চলিক সমর্থন দৃশ্যমান হোক; যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর গ্রহণযোগ্যতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও তার জনসমর্থন বৃদ্ধি পায়।
সৌদি আরবের গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আব্দুলাজিজ সাগের জানান, ইরান প্রতিটি উপসাগরীয় দেশের জন্যই সমস্ত ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা অতিক্রম করেছে বলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্ত ধারণা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তেহরানও বসে নেই। শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করলেও, পরবর্তীতে হামলার পরিধি বাড়িয়েছে তারা। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের প্রধান বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও পরিবহন খাতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, উপসাগরীয় অন্তত ছয়টি দেশে এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে ইরান, যা দেশগুলোর জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরব দেশগুলোর আশঙ্কা, তেহরানের হাতে যদি শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা টিকে থাকে, তবে ভবিষ্যৎ যেকোনো উত্তেজনায় তারা গোটা অঞ্চলের জ্বালানি রুট জিম্মি করে ফেলতে পারে। তাই তারা ইরানকে সামরিকভাবে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়ার পক্ষে।
উপসাগরীয় একটি সূত্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আরব নেতাদের বর্তমান অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট—ট্রাম্প প্রশাসনকে অবশ্যই ইরানের সামরিক শক্তি সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ করে দিতে হবে। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরান বরাবরই মার্কিন ঘাঁটি থাকা তার আরব প্রতিবেশীদের গভীর সন্দেহের চোখে দেখে। সূত্রটির মতে, ইরানকে এখন দুর্বল করা না হলে তারা চিরকাল এই অঞ্চলকে জিম্মি করেই রাখবে।

অনলাইন ডেস্ক 



















