ঢাকা শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আব্দুল কাদের খান: এক দানবীর, সজ্জন ও মহৎ মানুষের বিদায়

blank

জীবন কখনো কখনো এমন মানুষকে আমাদের মাঝে পাঠায়, যাদের চলাফেরা, ব্যবহারের আন্তরিকতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা—সবকিছু দিয়ে একটি সমাজকে বদলে দিতে পারে। আব্দুল কাদের খান ঠিক তেমনই একজন মানুষ ছিলেন। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি শুধুমাত্র একজন সফল ব্যবসায়ী নন, একজন সজ্জন, পরোপকারী এবং মহৎ মানুষের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

তিনি দীর্ঘদিন ওয়ালটনের অন্যতম বৃহৎ ডিলার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং জ্ঞানের কারণে অল্প সময়েই তিনি প্রতিষ্ঠিত হন। ব্যবসার পাশাপাশি মানবিকতা ছিল তাঁর প্রতিটি কাজের মূল চালিকাশক্তি। নিজের সফলতার পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই যেন ছিল তাঁর ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।

ব্যবসার প্রসারের পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবদান রাখার লক্ষ্যেই একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। মানুষকে সুস্বাস্থ্য উপহার দেওয়ার এই মহৎ প্রয়াস আজও তাঁর দয়ার প্রতীক হয়ে রয়েছে। চিকিৎসাসেবা যেন শুধু অর্থবিত্তশালীদের জন্য নয়—এ কথা তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন।

চট্টগ্রামে তাঁর প্রতিষ্ঠিত রেস্টুরেন্ট শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ছিল না; অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস, অনেকের হাসিমুখে জীবিকা নির্বাহের পথ। তাঁর উদ্যোগে যে অসংখ্য মানুষ কাজ পেয়েছে, তাদের পরিবারগুলো আজ তাঁর অবদানের সাক্ষী হয়ে আছে।

শৈশব কেটেছে তাঁর সিংহরাগী গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই এই গ্রামের প্রতি ছিল তাঁর এক গভীর মমত্ববোধ। গ্রামটি যেন তাঁর আত্মার অংশ ছিল। গ্রামের উন্নয়ন, মানুষের সুখ-দুঃখ, সমাজকল্যাণ—সবকিছুতে তিনি ছিলেন এক অভিভাবকের মতো। সিংহরাগী গ্রামের কল্যাণে তিনি সর্বদা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। গ্রামের মানুষের মুখে আজও তাঁর হাসি, তাঁর উদারতা, তাঁর সৌজন্য, তাঁর প্রাণোচ্ছ্বল উপস্থিতির গল্প ছড়িয়ে আছে।

যে মানুষ সারাজীবন অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যস্ত থাকে, সমাজের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে, আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে তাঁর করুণার ছায়ায় আবৃত করেন। আজ সেই মহান মানুষটি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন—চলে গেছেন চিরশান্তির দেশে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তাঁর বিদায় শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজ, তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল ও রেস্টুরেন্ট, সিংহরাগী গ্রাম—সবাই যেন এক অভিভাবক, এক দানবীর, এক হাসিমুখের মানুষের ছায়া হারালো।

তবে মহান আল্লাহর কাছে সব বরকত ও প্রত্যাবর্তন। আমরা সকলেই প্রার্থনা করি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন আব্দুল কাদের খানকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন, তাঁর সকল নেক আমল কবুল করেন এবং পরিবারকে এই শোকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করেন। আমিন।

এই বিদায় পৃথিবীর জন্য বেদনার, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কর্ম, মানবতা ও ভালোবাসা চিরকাল মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে—এক অনন্ত স্মৃতি হয়ে।

লেখকঃ শিক্ষক ও সমাজকর্মী 

 

জনপ্রিয় খবর
blank

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় কলাপাড়া বিএনপির আনন্দ মিছিল

আব্দুল কাদের খান: এক দানবীর, সজ্জন ও মহৎ মানুষের বিদায়

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
blank

জীবন কখনো কখনো এমন মানুষকে আমাদের মাঝে পাঠায়, যাদের চলাফেরা, ব্যবহারের আন্তরিকতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা—সবকিছু দিয়ে একটি সমাজকে বদলে দিতে পারে। আব্দুল কাদের খান ঠিক তেমনই একজন মানুষ ছিলেন। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি শুধুমাত্র একজন সফল ব্যবসায়ী নন, একজন সজ্জন, পরোপকারী এবং মহৎ মানুষের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

তিনি দীর্ঘদিন ওয়ালটনের অন্যতম বৃহৎ ডিলার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং জ্ঞানের কারণে অল্প সময়েই তিনি প্রতিষ্ঠিত হন। ব্যবসার পাশাপাশি মানবিকতা ছিল তাঁর প্রতিটি কাজের মূল চালিকাশক্তি। নিজের সফলতার পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই যেন ছিল তাঁর ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।

ব্যবসার প্রসারের পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবদান রাখার লক্ষ্যেই একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। মানুষকে সুস্বাস্থ্য উপহার দেওয়ার এই মহৎ প্রয়াস আজও তাঁর দয়ার প্রতীক হয়ে রয়েছে। চিকিৎসাসেবা যেন শুধু অর্থবিত্তশালীদের জন্য নয়—এ কথা তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন।

চট্টগ্রামে তাঁর প্রতিষ্ঠিত রেস্টুরেন্ট শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ছিল না; অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস, অনেকের হাসিমুখে জীবিকা নির্বাহের পথ। তাঁর উদ্যোগে যে অসংখ্য মানুষ কাজ পেয়েছে, তাদের পরিবারগুলো আজ তাঁর অবদানের সাক্ষী হয়ে আছে।

শৈশব কেটেছে তাঁর সিংহরাগী গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই এই গ্রামের প্রতি ছিল তাঁর এক গভীর মমত্ববোধ। গ্রামটি যেন তাঁর আত্মার অংশ ছিল। গ্রামের উন্নয়ন, মানুষের সুখ-দুঃখ, সমাজকল্যাণ—সবকিছুতে তিনি ছিলেন এক অভিভাবকের মতো। সিংহরাগী গ্রামের কল্যাণে তিনি সর্বদা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। গ্রামের মানুষের মুখে আজও তাঁর হাসি, তাঁর উদারতা, তাঁর সৌজন্য, তাঁর প্রাণোচ্ছ্বল উপস্থিতির গল্প ছড়িয়ে আছে।

যে মানুষ সারাজীবন অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যস্ত থাকে, সমাজের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে, আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে তাঁর করুণার ছায়ায় আবৃত করেন। আজ সেই মহান মানুষটি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন—চলে গেছেন চিরশান্তির দেশে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তাঁর বিদায় শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজ, তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল ও রেস্টুরেন্ট, সিংহরাগী গ্রাম—সবাই যেন এক অভিভাবক, এক দানবীর, এক হাসিমুখের মানুষের ছায়া হারালো।

তবে মহান আল্লাহর কাছে সব বরকত ও প্রত্যাবর্তন। আমরা সকলেই প্রার্থনা করি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন আব্দুল কাদের খানকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন, তাঁর সকল নেক আমল কবুল করেন এবং পরিবারকে এই শোকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করেন। আমিন।

এই বিদায় পৃথিবীর জন্য বেদনার, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কর্ম, মানবতা ও ভালোবাসা চিরকাল মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে—এক অনন্ত স্মৃতি হয়ে।

লেখকঃ শিক্ষক ও সমাজকর্মী