ঢাকা শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবারও জাবিতে ছাত্রলীগের ব্যানার, বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্তে অনীহা

blank

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানার টানানোর ঘটনার সময় আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ ছিলো। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘোরাফেরা করছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

গত রোববার (১৬ নভেম্বর) পরিবহন চত্বরে গভীর রাতে “Stop Genocide” লিখিত ছাত্রলীগের একটি ব্যানার টানানো দেখা যায়।

blank

বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “জুলাই হামলার ঘটনায় চিহ্নিত ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসের আশপাশে অবস্থান করে আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”

জাকসুর এজিএস ফেরদৌস ফাহিম বলেন, “লাইন মেরামতের নামে ট্রান্সপোর্ট চত্বর এলাকার সিসিটিভি ও ইন্টারনেট সংযোগ গতকাল সকাল থেকেই বন্ধ ছিল। এই তথ্য সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কিংবা প্রকৌশল দপ্তরের ইলেকট্রিক বিভাগ থেকে বাইরে গেছে।  লাইন কাট অফ থাকায় ট্রান্সপোর্ট থেকে চৌরঙ্গী, খালেদা জিয়া হল, সালাম বরকত জেনারেটর মোড়, আল বেরুনী সবখানেই সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক ও ইন্টারনেট সংযোগ উদ্দেশ্যে সাময়িক সময়ের জন্য লাইন কাট অফ হয়েছিল। তবে আমার মনে হয়, ব্যানারটি কোন দলের পক্ষ থেকে নয়, ব্যাক্তি কর্তৃক লাগানো হয়েছে। তাই কোন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না।”

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়কে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক ব্যাপক নাশকতার পরিকল্পনার আভাস পাওয়া গেছে।

কয়েকটি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকাগুলো-বিশেষ করে ইসলামনগর, আমবাগান, জামসিং, সাভার এবং ঢাকার মিরপুর অঞ্চলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জাবি শাখার অনেক নেতাকর্মীর আনাগোনা বেড়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে ওইসব এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছেন। এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক শান্ত মাহবুবকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভবনের দেয়ালে সংগঠনটির পক্ষে দেওয়াল লিখন করতে দেখা গেছে। শান্ত মাহবুব বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারীর সন্তান ।

এর আগে, গত ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী মিছিল ও সমাবেশ করে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও জাকসু প্রতিনিধিদের উদ্যোগে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

blank

ঘটনার পরদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘হটাও ইউনূস, বাঁচাও দেশ’ লেখা ব্যানারসহ একটি মিছিলের ভিডিও পোস্ট হয়। ভিডিওটিতে ৪৩তম ব্যাচের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম, নেতা সোহেল রানাসহ একাধিক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীকে দেখা গেছে।

তবে স্থানীয় ফাড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশে পাশে ছাত্রলীগের  কোনো মিছিল হয়েছে কিনা  আমার  জানা নেই।’

ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফাড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। তিনি এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলামের কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন কেটে দেওয়ায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নির্বাচিত ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু দৈনিক চলনবিল প্রবাহকে জানান, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। আশা করি, আমরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পারবো।”

এদিকে, শিক্ষার্থীদের চাওয়া একটি নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন এই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারবে কি? এমন প্রশ্ন থেকেই যায়।

জনপ্রিয় খবর
blank

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় কলাপাড়া বিএনপির আনন্দ মিছিল

আবারও জাবিতে ছাত্রলীগের ব্যানার, বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্তে অনীহা

প্রকাশের সময় : ০৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
blank

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানার টানানোর ঘটনার সময় আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ ছিলো। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘোরাফেরা করছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

গত রোববার (১৬ নভেম্বর) পরিবহন চত্বরে গভীর রাতে “Stop Genocide” লিখিত ছাত্রলীগের একটি ব্যানার টানানো দেখা যায়।

blank

বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “জুলাই হামলার ঘটনায় চিহ্নিত ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসের আশপাশে অবস্থান করে আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”

জাকসুর এজিএস ফেরদৌস ফাহিম বলেন, “লাইন মেরামতের নামে ট্রান্সপোর্ট চত্বর এলাকার সিসিটিভি ও ইন্টারনেট সংযোগ গতকাল সকাল থেকেই বন্ধ ছিল। এই তথ্য সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কিংবা প্রকৌশল দপ্তরের ইলেকট্রিক বিভাগ থেকে বাইরে গেছে।  লাইন কাট অফ থাকায় ট্রান্সপোর্ট থেকে চৌরঙ্গী, খালেদা জিয়া হল, সালাম বরকত জেনারেটর মোড়, আল বেরুনী সবখানেই সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক ও ইন্টারনেট সংযোগ উদ্দেশ্যে সাময়িক সময়ের জন্য লাইন কাট অফ হয়েছিল। তবে আমার মনে হয়, ব্যানারটি কোন দলের পক্ষ থেকে নয়, ব্যাক্তি কর্তৃক লাগানো হয়েছে। তাই কোন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না।”

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়কে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক ব্যাপক নাশকতার পরিকল্পনার আভাস পাওয়া গেছে।

কয়েকটি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকাগুলো-বিশেষ করে ইসলামনগর, আমবাগান, জামসিং, সাভার এবং ঢাকার মিরপুর অঞ্চলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জাবি শাখার অনেক নেতাকর্মীর আনাগোনা বেড়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে ওইসব এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছেন। এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক শান্ত মাহবুবকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভবনের দেয়ালে সংগঠনটির পক্ষে দেওয়াল লিখন করতে দেখা গেছে। শান্ত মাহবুব বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারীর সন্তান ।

এর আগে, গত ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী মিছিল ও সমাবেশ করে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও জাকসু প্রতিনিধিদের উদ্যোগে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

blank

ঘটনার পরদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘হটাও ইউনূস, বাঁচাও দেশ’ লেখা ব্যানারসহ একটি মিছিলের ভিডিও পোস্ট হয়। ভিডিওটিতে ৪৩তম ব্যাচের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম, নেতা সোহেল রানাসহ একাধিক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীকে দেখা গেছে।

তবে স্থানীয় ফাড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশে পাশে ছাত্রলীগের  কোনো মিছিল হয়েছে কিনা  আমার  জানা নেই।’

ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফাড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। তিনি এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলামের কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন কেটে দেওয়ায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নির্বাচিত ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু দৈনিক চলনবিল প্রবাহকে জানান, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। আশা করি, আমরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পারবো।”

এদিকে, শিক্ষার্থীদের চাওয়া একটি নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন এই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারবে কি? এমন প্রশ্ন থেকেই যায়।