ঢাকা বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের দোসর মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়ন বাতিল

blank

জাতীয় পার্টির একাংশের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নপত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর না থাকা এবং ঋণ খেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

 

রোববার (৪ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার নেতৃত্বে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে।

 

মুজিবুল হক চুন্নু কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

 

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ‘হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর ছিল না। পাশাপাশি তিনি রূপালী ব্যাংকের ঋণ খেলাপির তথ্য গোপন করেছেন এবং হলফনামায় সম্পদের সঠিক বিবরণ দেননি। এসব কারণেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।’

 

জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত আটটি মামলার কারণে জনরোষের আশঙ্কায় মুজিবুল হক চুন্নু নিজে যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত হননি। তবে তার প্রস্তাবক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।’

 

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক, জামায়াতের প্রার্থী ডা. (কর্নেল অব.) জেহাদ খান এবং জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

আজ অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে তিনটি আসনের মোট ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ১৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বেশিরভাগই স্বতন্ত্র। তাদের ক্ষেত্রে শতকরা একভাগ ভোটারের সমর্থনসংক্রান্ত স্বাক্ষরের গরমিল, সম্পদের হিসাব ও হলফনামায় ত্রুটি, মামলার তথ্য গোপন এবং ঋণ খেলাপির অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।

 

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে বিএনপির চার বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তারা হলেন— জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু, রুহুল হোসাইন এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংক্রান্ত তথ্য সঠিক না থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে এ আসনে বিএনপির আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাসুদ হিলালীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

এ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। বাতিল হওয়া অন্য প্রার্থীরা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আজিজুর রহমান জার্মানি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়াতুল্লাহ হাদী এবং খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী। মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করায় তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

 

কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া–কটিয়াদী) আসনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. বিল্লাল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবুল বাসার রেজওয়ান এবং গণ অধিকার পরিষদের মো. শফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক এমপি মো. আনিসুজ্জামান খোকন, জাতীয় পার্টির মো. আফজাল হোসেন ভূঁইয়া ও জামায়াত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

 

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তারা হলেন— জাতীয় পার্টির একাংশের নেতা মুজিবুল হক চুন্নু, গণতন্ত্রী পার্টির দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম আলমগীর এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা।

 

এর আগে, শনিবার কিশোরগঞ্জ-৪, ৫ ও ৬ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। সেদিন ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। সব মিলিয়ে দুই দিনে ছয়টি আসনে মোট ৬১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ৩৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই চলাকালে জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, সংশ্লিষ্ট আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

গুরুদাসপুরে অসহায় হতদরিদ্রদের স্বাবলম্বী করতে সেলাইমেশিন বিতরণ

আওয়ামী লীগের দোসর মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়ন বাতিল

প্রকাশের সময় : ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
blank

জাতীয় পার্টির একাংশের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নপত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর না থাকা এবং ঋণ খেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

 

রোববার (৪ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার নেতৃত্বে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে।

 

মুজিবুল হক চুন্নু কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

 

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ‘হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর ছিল না। পাশাপাশি তিনি রূপালী ব্যাংকের ঋণ খেলাপির তথ্য গোপন করেছেন এবং হলফনামায় সম্পদের সঠিক বিবরণ দেননি। এসব কারণেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।’

 

জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত আটটি মামলার কারণে জনরোষের আশঙ্কায় মুজিবুল হক চুন্নু নিজে যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত হননি। তবে তার প্রস্তাবক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।’

 

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক, জামায়াতের প্রার্থী ডা. (কর্নেল অব.) জেহাদ খান এবং জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

আজ অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে তিনটি আসনের মোট ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ১৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বেশিরভাগই স্বতন্ত্র। তাদের ক্ষেত্রে শতকরা একভাগ ভোটারের সমর্থনসংক্রান্ত স্বাক্ষরের গরমিল, সম্পদের হিসাব ও হলফনামায় ত্রুটি, মামলার তথ্য গোপন এবং ঋণ খেলাপির অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।

 

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে বিএনপির চার বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তারা হলেন— জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু, রুহুল হোসাইন এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংক্রান্ত তথ্য সঠিক না থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে এ আসনে বিএনপির আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাসুদ হিলালীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

এ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। বাতিল হওয়া অন্য প্রার্থীরা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আজিজুর রহমান জার্মানি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়াতুল্লাহ হাদী এবং খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী। মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করায় তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

 

কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া–কটিয়াদী) আসনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. বিল্লাল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবুল বাসার রেজওয়ান এবং গণ অধিকার পরিষদের মো. শফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক এমপি মো. আনিসুজ্জামান খোকন, জাতীয় পার্টির মো. আফজাল হোসেন ভূঁইয়া ও জামায়াত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

 

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তারা হলেন— জাতীয় পার্টির একাংশের নেতা মুজিবুল হক চুন্নু, গণতন্ত্রী পার্টির দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম আলমগীর এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা।

 

এর আগে, শনিবার কিশোরগঞ্জ-৪, ৫ ও ৬ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। সেদিন ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। সব মিলিয়ে দুই দিনে ছয়টি আসনে মোট ৬১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ৩৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই চলাকালে জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, সংশ্লিষ্ট আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।