অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ঢল নামে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।
দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান।
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোটের নেতারা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের বিভিন্ন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি উচ্চ আদালতের বিচারপতি ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ভাষাশহীদদের স্মরণে ফুল দেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিরা পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, সিপিবি ও জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতাকর্মীরাও মিছিল ও স্লোগানসহ শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে ভাষাশহীদদের চেতনা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
জুলাই ঐক্য, প্রথম আলো বন্ধুসভা ও জুলাই মঞ্চের মতো সংগঠনগুলোর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের সারি দীর্ঘ হতে থাকে এবং পুরো এলাকা একুশের শোক, শ্রদ্ধা ও সংহতির আবহে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনলাইন ডেস্ক 












